টেকসই ক্ষুদ্র আর্থিক সেবা মডেলের উদ্ভাবক দারিদ্র্য নিরসনের অগ্রণী পুরুষ ও নিরন্তর যোদ্ধা এবং সমাজ ও নারী উন্নয়নের অগ্রদূত

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রয়াসে মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলাদেশের এক নিভৃত পল্লীতে স্বল্প পরিসরে তিনি শুরু করেছিলেন বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের জীবনমান বদলের কর্মসূচি। বহুবছরের নিরন্তর প্রচেষ্ঠায় সেই কর্মসূচিকে তিনি উন্নীত করেছিলেন দারিদ্র্য নিরসনের সবথেকে টেকসই ও কার্যকর মডেল হিসেবে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আশা’ এখন বিশ্বের সবথেকে দক্ষ, টেকসই ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান। তিনি ১৯৭৮ সালে আশা প্রতিষ্ঠা করেন - যার বর্তমান ব্রাঞ্চ সংখ্যা ৩,০৭৩টি। আশা গৃহীত কর্মসূচির সুফল ভোগ করছে বাংলাদেশের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ। পাশাপাশি বিশ্বের ১৩টি দেশের ২৫ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য নিরসনে আশা কারিগরি ও জ্ঞানগত সহায়তা দিচ্ছে। আশার কার্যক্রমের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ পরিচিত হয়েছে বিশেষ মর্যাদায়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। এই কীর্তিমান মানুষটির স্মরণে গত ২৪ মার্চ ২০২১ একটি স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সভায় অংশগ্রহণ করে আশার প্রতিষ্ঠাতার জীবন, কর্মসাধনা ও অবদান আলোকপাত করেন-যার সারাংশ এ ক্রোড়পত্রে উপস্থাপিত হলো।

Tributes to Md. Shafiqual Haque Choudhury,

Founder-President, ASA

Md. Shafiqual Haque Choudhury, Founder of ASA was an icon in the world’s social development. He enjoyed a rare distinction for developing a simple and sustainable microfinance model for poverty alleviation and women’s empowerment and for making it as a grand success at home and abroad. About seven million poor people of Bangladesh are being directly benefited by the services offered by ASA presently. Beyond Bangladesh, 2.5 million underprivileged people of 13 countries in Asia and Africa derive benefit of microfinance service in pursuance of ASA methodology.

Md. Shafiqual Haque Choudhury’s sudden demise on 12 February 2021 is a great loss for poverty alleviation endeavour in Bangladesh and in the world too. A remembrance meeting was organized on 24 March 2021 for commemorating his life, legacy, contribution, and mission. Dignitaries, renowned social development exponents of the world, colleagues, admirers and friends of late Md. Shafiqual Haque Choudhury joined the commemoration and paid tributes by outlining his extraordinary works and dedication. Excerpts are presented here.

এম এ মান্নান, এমপি

মাননীয় মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের এনজিও জগতের একজন দিকপাল। আমি সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাঁর স্মরণ সভায় অংশ নিচ্ছি। ভাল হতো যদি সরাসরি এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারতাম। কিন্তু বিদেশে থাকার জন্য তা পারলাম না। আমি এনজিও ব্যুরোর দায়িত্বে থাকার সময় তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে অনেকবার দেখা ও কথা হয়েছে। পরিশ্রম ও নিষ্ঠা দিয়ে তিনি আশাকে ছোট সংস্থা থেকে অনেক বড় সংস্থায় পরিণত করেছেন। আশা শুধু বাংলাদেশেই নয়, গোটা বিশ্বে একটি নন্দিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। তাঁর স্মরণ সভায় দেশ ও বিদেশের অনেক জ্ঞানী ও গুণী মানুষ অংশ নিচ্ছেন এবং মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আমিও তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

অজয় দাশগুপ্ত

সিনিয়র সাংবাদিক

সফিক ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমি দৈনিক সংবাদে কাজ করার সময়, ১৯৯২ সালে দৈনিক সংবাদে আশা থেকে একটি লেখা গিয়েছিল। আমি তখন সংবাদের বার্তা বিভাগে কাজের পাশাপাশি অর্থনীতির একটি পাতার দায়িত্বে ছিলাম। লেখাটি পাঠিয়েছিলেন সম্ভবত এনামুল হক সাহেব। আমার মনে হয়েছিল লেখাটা বোধহয় আরেকটু পরিবর্তন করার সুযোগ আছে। তখন আমি আশা অফিসে ফোন করে বলি আপনাদের একটা লেখা পেয়েছি। যদি একটু পরিবর্তন করা যায় তাহলে ভাল হয়। ফোন পেয়েই এনাম সাহেব তো বটেই, সফিক সাহেবও সাড়া দিলেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলে লেখার কিছুটা পরিবর্তন করে দিলেন, সেই সূচনা। এরপর থেকে তিনি বেশ নিয়মিতই যোগাযোগ করতেন। আমিও মাঝে মধ্যে যোগাযোগ করতাম।

আজকের এই দিনে তাঁকে আমি স্মরণ করি। সবশেষে একটি কথা বলবো, তিনি আমাকে বলতেন, যে প্রতি ব্রাঞ্চে আমরা ৬-৭ জন কর্মী নিয়োগ করি। আমাদের সাংগঠনিক ব্যয়, প্রশাসন পরিচালনার ব্যয় ন্যূনতম রাখতে সব সময় চেষ্টা করি। যাতে ঋণ গ্রহীতাদের ওপরে এই চাপটা গিয়ে না পড়ে। এই বিষয়টি সকল সংগঠনের জন্য শিক্ষণীয় বলে আমি মনে করি। সফিক ভাই, আপনাকে স্মরণ রাখবো চিরদিন।

ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী

প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি
গণস্বাস্থ্য

দু-চার কথায় মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী সম্পর্কে বলা কঠিন। তিনি ছিলেন একজন অপূর্ব ভদ্রলোক ও সজ্জন ব্যক্তি। গরীব মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন - যা বেশী মানুষ করতে পারেনি। তিনি কিছু কাজ করেছেন, যা ব্র্যাক পরে করেছে। যেমন, একজন সেবাগ্রহণকারী সদস্য মারা গেলে অবশিষ্ট ঋণ পরিশোধ করতে হবে না। সদস্য মারা গেলে বকেয়া তো দিতে হবেই না বরং তার দাফন-কাফনের জন্য আশার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। এ ব্যবস্থা মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী করে গেছেন।

তাঁকে বহুবছর ধরে দেখে আসছি। তাঁর অনেক কাজ সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। আশার সাফল্যের কারণ হচ্ছে, তিনি সাধারণ মানুষকে আশার কর্মসূচিতে যুক্ত করতে পেরেছিলেন। বন্যার সময় আশার কর্মীরা লুঙ্গি পরে দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। এ রকম একজন কৃতি মানুষ অকালে চলে গেলেন। তাঁর অবদানের কথা একটা দুটা শোক সভায় বলা সম্ভব নয়।

তিনি আশা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য কাজ করেছেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়ায় সহায়তা দিয়েছেন। প্রকৃত অর্থেই তিনি ছিলেন একজন উদ্ভাবক। তাঁকে স্মরণ রাখা আমাদের দায়িত্ব। তার অপূর্ণ স্বপ্নকে যেন আশার বর্তমান নেতৃত্ব পূর্ণ করে এগিয়ে যায় এটাই আমার কামনা।

জাকির হোসেন

নির্বাহী পরিচালক
ব্যুরো বাংলাদেশ

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছি। দেশি- বিদেশি অনেক বন্ধু ওনার জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন। আমি একজন প্রাকটিশনার হিসেবে মনে করি, উনি ক্ষুদ্রঋণ জগতের একজন অসাধারণ বোদ্ধা ব্যক্তি ছিলেন।

উনি ক্ষুদ্রঋণকে ভিন্নভাবে দেখেছিলেন। উনি আমাদের চেয়ে অনেক ভালোভাবে মাইক্রোফিন্যান্সকে বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণে স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে খুব সহজে দরিদ্র মানুষের হাতে ক্ষুদ্রঋণ পৌঁছানোর একটা চমৎকার ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন - যা ম্যাজিকের মতো কাজ করেছিল - যা আশাকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও এই মডেলটি অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। দেশে-বিদেশের প্রায় ৮০-৯০ লাখ দরিদ্র মানুষ আশা থেকে সুফল পাচ্ছে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আশা বিরাট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

আরেকটা বিষয় আমাকে খুবই চমৎকৃত করে, সেটি হলো আশা এমন পদ্ধতি রপ্ত করেছে যেটা করতে আমরা এখনও সাহস পাই না। বিশেষ করে সদস্যের দ্বারপ্রান্তে সঞ্চয় ফেরত দেয়া এবং সেখানেই সদস্যদের ঋণ দেয়া। অর্থাৎ প্রচলিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গ্রামেই মানুষদের ঋণ দেয়া এবং সঞ্চয় ফেরত দেয়ার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, এটা ক্ষুদ্রঋণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

এছাড়া আশাকে আত্মনির্ভরশীল করা, বিদেশে আশা মডেল সম্প্রসারণ করা। যখন একটা জায়গায় সফল হলো, সেটাকে অনেক বড় পর্যায়ে, ব্যাপক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা, এটা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। এ কাজে তিনি সফল হয়েছেন।

একটা স্মরণ সভার মাধ্যমে ওনার কাজকে মূল্যায়ন করা যাবে না। সবচেয়ে ভাল হয় যদি ওপর একটি স্মারক গ্রস্থ প্রকাশ করা হয়। যে গ্রন্থ থেকে পরবর্তী প্রজন্ম অনেক কিছু শিখবে ও জানবে। আমি আশা করি, তাঁর উত্তরাধিকারী ও সহকর্মীগণ মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

ড. আতিউর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক
এবং বাংলাদেশ
ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেকদিনের। তখন তিনি আশা কেবল শুরু করেছেন। সেখান থেকে আজ আশা একটি মহিরূহে পরিণত হয়েছে। সত্যিকার অর্থেই আশা গরীব মানুষদের মাঝে আশা জাগিয়ে তুলতে পেরেছে। প্রতিষ্ঠানটির সৌন্দর্য হলো এটি সহজ ও সাধারণ। আমি যতগুলো ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা দেখেছি, সেগুলোর মধ্যে আশা হচ্ছে সব থেকে সহজ ও সাধারণ। আর এটিই হচ্ছে আশার সৌন্দর্য।

আশার কাজকে সহজেই বোঝা যায়। ফলে এই মডেল খুব দ্রুত প্রতিস্থাপন করা যায়। বিশ্বের নানা দেশে আশাকে অনুসরণ করে দারিদ্র্য নিরসন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমি এখানে ভারতের বন্ধন ব্যাংকের কথা উল্লেখ করবো। এটি এখন ভারতে সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যারা আশা মডেল অনুসরণ করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

সমাজ উন্নয়নের অন্যতম প্রবক্তা মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন একাগ্র চিন্তার মানুষ। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি গোটা পৃথিবীর মাঝে একটি বন্ধন রচনা করেছেন: দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক উন্নয়নের বন্ধন। সিডিএফ এর চেয়ারপারসন হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর অভিজ্ঞতা ও লব্ধ জ্ঞান থেকে উপকৃত হয়েছিলাম। তিনি সাধারণ মানুষের শক্তি ও সামার্থ্যরে ওপর ভরসা করতেন। বাংলাদেশকে এক সময় অনেকেই তলাবিহীন ঝুড়ি মনে করতো। বাংলাদেশের আজকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পেছনে তাঁর মতো কর্মবীরের অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁর আত্মার প্রতি জানাই আমার গভীর শ্রদ্ধা।

মোঃ আব্দুল আউয়াল

এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর
সিডিএফ

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয় দুই দশকের বেশী। তাঁর সঙ্গে বিশ্বের নানা স্থানে ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচন সংক্রান্ত অনেকগুলো সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ আমার হয়েছে।

তাঁর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশ্বের উন্নয়ন সেক্টরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল কিংবদন্তীতূল্য। তিনি অস্টেলিয়ার ব্রিজবেনভিত্তিক নেটওয়াক সংস্থা Banking with the Poor এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। সেই নেটওয়ার্কের সম্মেলনে ভিয়েতনাম গিয়েছিলাম। সেখানে মূল বক্তা ছিলেন মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী। তখন বোর্ড নির্বাচন হচ্ছিল। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আউয়াল আপনি নির্বাচনে কনটেস্ট করুন। আমি বললাম, আমাকে তো কেউ চেনে না। কে আমাকে ভোট দেবে। তিনি বললেন, সে দায়িত্ব আমার। ভোট গণনার পরে দেখা গেল আমি বিজয়ী হয়েছি। সফিক ভাইয়ের ডিপ্লোমেসির কারণে আমি অপরিচিত হয়েও ভোটে জিতে গেলাম।

একবার একটি সম্মেলনে চীনে গিয়েছিলাম। সেখানে সফিক ভাই ছিলেন। সেই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা দেখে আমি অভিভ‚ত হয়ে যাই। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তিন পুরোধা যথাক্রমে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী। এই তিন ব্যক্তিত্বের মাঝে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ ছিল অতুলনীয়। স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সফিকুল হক চৌধুরীর আদর্শ যেন বর্তমান নেতৃত্ব লালন করে এগিয়ে নিয়ে যায়, এই আমার একান্ত প্রত্যাশা।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

সাবেক গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংক

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর এই স্মরণসভায় উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সফিক এবং আমি সমসাময়িক ছিলাম ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে। আমি অর্থনীতিতে, উনি সমাজ কল্যাণে। আমার সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় হয়েছিল ১৯৮০ সালে। আমি তখন সিরডাপে কাজ করি। তখন থেকে বিভিন্ন স্থানে ও অনুষ্ঠানে সফিকুল হক চৌধুরীর সাথে দেখা হয়েছে। তাঁর কর্মচাঞ্চল্য, তাঁর কর্মতৎপরতা, তাঁর কথা বলার ভঙ্গী ছিল অত্যন্ত চমৎকার এবং তিনি মানুষকে সহজেই মুগ্ধ করতে পারতেন।

সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক - যার জুড়ি নেই। তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের উপকার করেছেন, যে অবদানের কথা কেউ ভুলবে না। সেটিই সফিকুল হক চৌধুরীর সবচেয়ে বড় পাওয়া, আমি মনে করি। আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।

মোহাম্মদ আজীম হোসেন

হেড অব গ্রুপ ট্রেজারি
এন্ড রিক্স ম্যানেজমেন্ট
আশা ইন্টারন্যাশনাল
গ্রুপ পিএলসি

প্রায় চার দশক মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সান্নিধ্যে থেকে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। শুরুর দিকে আশা দাতাদের থেকে অনুদান গ্রহণ করতো। দাতাদের শর্ত মেনে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা সহজ ছিল না। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী দাতাদের শর্ত ও খবরদারি সহজে মেনে নিতে পারতেন তা। ১৯৮৮ সালে বন্যার পর দুর্গত মানুষদের জন্য আশা একটি ঋণ কর্মসূচি গ্রহণ করে। গ্রহিতারা স্বেচ্ছায় ঋণের একটি বড় অংশ ফেরত দেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ঋণ কার্যক্রম গ্রহণে প্রেরণা দিয়েছিল। আশা ১৯৯১ সালে পুরোদমে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালু করে।

তাঁর বড় গুণ ছিল তিনি সকলের মতামতকে সম্মান করতেন। তিনি যুক্তি দিয়ে কথা বলতেন, অন্যের যুক্তিও মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। কারো মত গ্রহণযোগ্য হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করতেন। বাংলাদেশে আশার অর্জিত অভিজ্ঞতা তিনি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেন এবং সেই উদ্যোগ আজ দারুণভাবে সফল। আজ ১৩টি দেশে আশা মডেল বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং আশার কর্মীরাই তা বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে। আশার বর্তমান কর্মকর্তা ও কর্মীদের প্রতি আমার আহ্বান, সকল কাজে তাঁর চিন্তাকে গুরুত্ব দিন, তবেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে।

এম আবদুল আজিজ

সিনিয়র এ্যাডভাইজার
আশা ও
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় আশাকে জনকল্যাণমূলক একটি প্রতিষ্ঠান ও সেবা নেটওয়ার্ক হিসাবে তৈরী করেছেন এবং সেই নেটওয়ার্ক তিনি দেশের বাইরেও ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন, এটি একটি বিরাট সাফল্য। সরকার ও সরকারের বাহিরে তাঁর সঙ্গে কাজ করার আমার সুযোগ হয়েছে। তাঁকে একজন নীতি- নির্ধারক হিসেবে যেমন দেখেছি, তেমনি একজন দক্ষ প্রাকটিশনার হিসেবে দেখারও সুযোগ হয়েছে। ৭২ বছরের জীবনের ৪৩ বছরই তিনি আশার সঙ্গে যুক্ত থেকে সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়েছেন। তাঁর হাতেই আশার জন্ম হয়েছিল ছোট্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে। সেই প্রতিষ্ঠানকে তিনি স্ব-অর্থায়িত, আত্মনির্ভর, টেকসই ও সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

২০০৬ সালে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। আমি তখন কৃষি সচিব। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কৃষি, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা। সরকারে তাঁর মেয়াদ ছিল অল্প কিছুদিন, যা তিনি ভাল করেই জানতেন। তা সত্ত্বেও তিনি নিঃসংকোচে দৃঢ়তার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। সেই সময়ে অনেককেই দেখেছি সীমিত পরিসরে কথা বলতে। কিন্তু তিনি ছিলেন দায়িত্ব সচেতন ও সাবলীল।

আশার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ হয়। মানুষকে মুগ্ধ করার অসাধারণ গুণ ছিল তাঁর। সাদামাটা কথা বলতেন কিন্তু তার মধ্যে একটা বার্তা থাকতো। তাঁর আদর্শিক, নৈতিক ও আচরণিক ভাবাদর্শ আশা পরিবারের ঐক্যবদ্ধ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতো। তাঁর প্রয়াণে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবার নয়।

হুমায়রা ইসলাম

নির্বাহী পরিচালক
শক্তি ফাউন্ডেশন

আমি প্রথমেই মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমি আজকে তাঁর ব্যক্তিত্বের কিছু দিক তুলে ধরবো। আমি যখন ‘শক্তি ফাউন্ডেশন’শুরু করি দরিদ্র মহিলাদের নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে। তখন আমি সবে আমার পিএইচডি গবেষণা শেষ করেছি। আমি শুধু জানতাম দরিদ্র মানুষদের সঙ্গে কাজ করবো এবং তাদের ক্ষমতায়নে কিছু করবো। তখন কীভাবে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় তা একদম জানতাম না। এটা ১৯৯২ সালের কথা।

যখন শক্তি ফাউন্ডেশন শুরু করলাম, তখন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। অর্থ কোথা থেকে আসবে তাও জানতাম না। তখন দাতারা বলছে, নিজের সম্পদ দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করুন। সেই সময় সফিক সাহেবের সঙ্গে একটা মিটিংয়ে দেখা হয়েছিল। তখন দাতারা চলে যাচ্ছে। সবাই তখন চিন্তা করছিল কীভাবে ঋণের অর্থ ফেরত আনা নিশ্চিত করা যায়। ঋণ ফেরত আনা নিশ্চিত করতে নানাবিধ ডকুমেন্ট রাখছিল নানা প্রতিষ্ঠান।

তখন সফিক ভাই দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, অতসব কাগজপত্র ও ডকুমেন্টের দরকার নেই। শুধুমাত্র একটা খতিয়ান বই আর কলম রাখবেন। এতো ফর্ম-টর্মের কিচ্ছু দরকার নেই। আপনি আপনার কর্মীদের ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং তাদের সঙ্গে কার্যকর ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ তৈরী করুন, দেখবেন তাড়াতাড়ি আপনার কাজ হয়ে যাবে। দেখলাম আসলেই এতে খরচ অনেক কম। তখন আশা ছিল সব থেকে ব্যয়সাশ্রয়ী প্রতিষ্ঠান। তিনি সবসময় প্রতিষ্ঠানের ব্যয় হ্রাসের চিন্তা করতেন, সহজভাবে কম সময়ে প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে অধিক কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে ভাবতেন। তাঁর এ দর্শন আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

ইকবাল আহমেদ

চিফ অপারেটিং অফিসার
বিজ

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আশার কোন তুলনা হয়না। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী আশাকে এতবড় প্রতিষ্ঠান তৈরী করে গেছেন, এমন আরেকটি প্রতিষ্ঠান আর তৈরী হবে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তিনি ছিলেন বড় মনের ও দূরদর্শী চিন্তার মানুষ। তাঁর মত মানুষ আমাদের সমাজে খুব কম। ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন কথাটি আমরা তাঁর কাছ থেকে জেনেছি। তাঁর সহায়তায় অনেক ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে গেছে। ওনার সঙ্গে খুব কম দেখা হতো। কিন্তু যখনই দেখা হতো, ওনার আচরণ আমাদের মুগ্ধ করতো।

মুর্শেদ আলম সরকার

নির্বাহী পরিচালক, পপি ও
চেয়ারম্যান, সিডিএফ

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যুতে আমাদের দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ তিনি দেশ ও জাতিকে অনেক কিছু দিয়েছেন এবং আরও অনেক কিছু দেয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল। বাংলাদেশের মতো পিছিয়ে পড়া দেশের একটি সংস্থা সূচিত উন্নয়ন কৌশল গোটা বিশ্বের মানুষের কাছে সফিকুল হক চৌধুরী পৌঁছে দিয়েছেন। কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ পৃথিবীতে আসেন মানুষের কল্যাণ করতে। সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন তেমনই একজন ক্ষণজন্মা মানুষ। তাঁর অভাব আমরা এখন গভীরভাবে অনুভব করছি।

তিনি সরকারি উঁচু পদে চাকুরির সুযোগ পেয়েও তা স্বেচ্ছায় গ্রহণ না করে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের কাজকেই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর চাওয়া ছিল সরকারের পাশাপাশি আরও ভাল কাজ করে মানুষের কল্যাণ ও দেশের মঙ্গল করা। সেই উদ্যোগের ফলই হচ্ছে আশা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থার কাজ দেশে ও বিদেশে সমাদৃত হয়েছে এবং হচ্ছে।

কিছু মানুষের অবদান কখনও ভুলে যাওয়া যায় না যেমন, সফিকুল হক চৌধুরী। সমসাময়িককালে তাঁর মতো প্রজ্ঞাবান ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ খুব একটা দেখা যায় না। এমনকি আমাদের জীবদ্দশায় এ রকম মানুষ পাওয়ার সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না। যারা আমাদের কাজের সমালোচনা করেন, তাদের বিনীতভাবে বলি, সফিকুল হক চৌধুরী এ সেক্টরে না এলে হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক-যুবতীর ভাগ্যে কী ঘটতো তা কি ভেবে দেখেছেন? এরা কোথায় যেত? মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী অসংখ্য মানুষের কাজের সুযোগ তৈরী করেছেনে। পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে গেছেন। এই বিশাল ব্যক্তিত্বের মানুষটির সঙ্গে কয়েক বছর সরাসরি কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছিল, সে জন্য আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

পারভীন মাহমুদ এফসিএ

চেয়ারপারসন
ইউসেপ

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর জীবন ও কর্মকে দেশ ও বিশ্বের বন্ধুরা স্মরণ করছে দেখে খুব ভাল লাগছে। আজ আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছি।বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে, তা আমরা সবাই বলছি। এ অর্জনের পেছনে সফিক ভাইদের অবদান অনেক। তাঁর মত মানুষেরা উন্নয়নকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। যা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্রঋণের অগ্রদূত। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ক্ষুদ্রঋণের এমন একটি মডেল উপহার দিয়েছেন যা সরল, টেকসই ও দ্রুত সম্প্রসারণশীল। পিকেএসএফে কাজ করার সময় তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। একসঙ্গে মাঠ ভিজিট করতে গিয়েছি। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী অথচ কর্ম-প্রত্যয়ী মানুষ ছিলেন। তিনি যে কাজ করতেন, তা ভাল করে জেনে বুঝেই করতেন। সবকিছুর ওপরে তিনি স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দিতেন। তিনি আশা মডেলকে বাংলাদেশের বাইরে সফলভাবে সম্প্রসারণ করেছেন। তাঁর অর্জন নতুন প্রজন্মের জন্য উৎসাহের এক অসাধারণ উদাহরণ বলে আমি মনে করি। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।

শিব নারায়ণ কৈরী

সিনিয়র এ্যাডভাইজার (ফিন্যান্স)
সাজেদা ফাউন্ডেশন

সফিক ভাই যে মডেল প্রতিষ্ঠা করেছেন তা বিশ্বব্যাপী আদর্শ Financial মডেল। সফিক ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। সফিক ভাই এবং আমি একই উপজেলার মানুষ। সফিক ভাই আমাকে পছন্দ করতেন, মাঝেমাঝেই আমাকে ফোন করতেন। উনি যে কোন ব্যাপারে আমাদের গাইড করতেন, বিশেষ করে মাইক্রোফিন্যান্সের বিষয়ে।

স্যার ফজলে হোসেন আবেদের সঙ্গে সফিক ভাইয়ের সম্পর্কটা ছিল বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের। আবেদ ভাইয়ের সঙ্গে তিনি যখনই দেখা করতে যেতেন, বলতেন, ‘কৈরী, আপনি কিন্তু সঙ্গে থাকবেন’। তো আমি বলতাম কেন,হাসতে হাসতে বলতেন, আপনি যদি না থাকেন তাহলে আবেদ ভাই অনেক বিষয়ে আমাকে ধরবেন। বলবেন, এটা করো, ওটা করো। আপনি থাকলে উনি সেসব বলতে পারবেন না। আবেদ ভাই আমার বড় ভাইয়ের মত। উনি কিছু বললে আমি না করতে পারবো না। সে রকম একটা ঘটনা বলি। একদিন উনি আবেদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। আমাকেও নিয়ে গেলেন। সেখানে আবেদ ভাই বললেন, সফিক, এ কাজটা আমরা করতে চাইছি, তুমি এখানে কিছুটা অংশগ্রহণ করো। কিন্তু সফিক ভাই ওই কাজে যুক্ত হতে চাইছিলেন না। কিন্তু তিনি আবেদ ভাইকে মুখে বলবেন না, যে তিনি ওটা করবেন না।

উনি আবেদ ভাইকে বললেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে দেখি। আমার তো বোর্ড আছে, তারা কী বলে।’ সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি আমাকে ফোন করলেন। বললেন, কৈরী বাবু আমি তো এ কাজটা করতে চাইছি না। তবে আমি তো বলতে পাববো না, আপনি আবেদ ভাইকে একটু বুঝিয়ে বলবেন। আমি আবেদ ভাইকে গিয়ে বললাম, সফিক ভাই তো এটা করতে চায় না। আবেদ ভাই হাসলেন আর বললেন, ‘সফিককে তো আমি চিনি। ও সব সময় সরল মনে চিন্তা করে। মাইক্রোফিন্যান্স ছাড়া অন্য কিছু করতে চায় না। ওর ধ্যান-জ্ঞান সব মাইক্রোফিন্যান্সকে ঘিরে।’

সফিক ভাই একদিন আমাকে ফোন দিয়ে বললেন, ‘কৈরী বাবু আমরা চিন্তা করছি, মহিলাদের জন্য একটা ব্যাংক গড়ে তুলবো। সেটা হবে Women’s Bank in Bangladesh. আমি তখন বললাম, যদি এটা হয় তাহলে তো ভালোই। উনি বললেন, তাহলে আপনি আবেদ ভাইয়ের সঙ্গে একটু শেয়ার করেন। উনি যদি আমাদের সাপোর্ট করেন, তাহলে আমরা বিষয়টি নিয়ে এগুতে পারি। সফিক ভাই সব সময় উদ্ভাবনমূলক চিন্তা করতেন। সফিক ভাইয়ের শেষ স্বপ্ন ছিল মহিলাদের জন্য একটি ব্যাংক করার। সেটা করতে পারেননি। তাঁর যারা উত্তরসূরী আছেন, আমার মনে হয় তারা বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

ড. হোসনে-আরা বেগম

নির্বাহী পরিচালক
টিএমএসএস

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন আমাদের সবার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন মানুষ ও গুরু। যখন টিএমএসএস এর জন্ম হয়েছিল তখন এটি ভালভাবে সংগঠিত ছিল না।টিএমএসএসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়তই সফিকুল হক চৌধুরীসাহেবের পরামর্শ নিয়েছি। উনি আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন।

আমি সরকারি চাকরি করতাম, সে সময় আমার বোর্ড থেকে চাপ আসলো, সরকারি চাকরি ছেড়ে না দিয়ে আসলে নির্বাহী ক্ষমতায় থাকা বেমানান। এতে সংস্থার শুদ্ধাচার থাকে না। সফিক ভাইকে যখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম তখন উনি এক বাক্যে বললেন, চাকুরি ছেড়ে দিন। উনি বললেন, সরকারি চাকুরি করে আপনি যত মানুষের উপকার করতে পারবেন, টিএমএসএসকে ভালভাবে গড়ে তুলতে পারলে তার চেয়ে বেশী মানুষের উপকার করতে পারবেন।

তিনি বলতেন, যদি কম খরচে সহজ পন্থায় দরিদ্র মানুষের দ্বারপ্রান্তে সেবা পৌঁছে দিতে পারেন তাতে দরিদ্র মানুষের কল্যাণ হবে। নারীদের দুঃখ-দুর্দশা দূর হবে। এ কথাগুলো সফিক ভাইয়ের কাছ থেকে শুনেছি। আজকে আবেদ ভাই নাই, সফিক ভাই নাই, আমাদের মধ্যে শূন্যতা বিরাজ করছে।

মোঃ নুরুল ইসলাম

সাবেক অধ্যাপক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সফিকুল হক চৌধুরী সম্পর্কে কথা বলতে গেলে সুদূর অতীতে ফিরে যেতে হয়, সেটা ১৯৬৫ সাল। ৫৬ বছর ধরে এই ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার বন্ধন। আপনারা তাঁর সম্পর্কে অনেক কথা বললেন। আমি সফিককে একজন অন্য মানুষ হিসেবে জানি।

সফিক ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয় ১৯৬৫ সালে। আমার এক বছর পর। সেই থেকে কীভাবে আমাদের সম্পর্কটা এতটা অন্তরঙ্গ হয়ে গিয়েছিল, বলে বোঝাতে পারবো না। আমি যেখানেই গেছি, সফিক সাহেব আমাকে টেনে বের করে এনেছেন। আরে নুরু ভাই কোথায়? তিনি মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান তৈরীকরেছেন এবং লাখ লাখ মানুষকে সেবা দিয়েছেন। আমি আশা করি তাঁর প্রতিষ্ঠান আরও অনেক দিন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। আমি পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য প্রার্থনা করি।

সুখেন্দ্র কুমার সরকার

সাবেক নির্বাহী পরিচালক
আরডিআরএস

সফিক ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় আশির দশকে। আমি তখন ব্র্যাকের প্রতিনিধি হিসেবে এডাবের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে ছিলাম। উনি খুব স্পষ্টবাদী মানুষ ছিলেন। যেটা বলা দরকার উনি তা সামনাসামনি বলে দিতেন। তাঁর সঙ্গে গভীরভাবে পরিচয় হলো, যখন আমরা ১৯৯২ সালে সিডিএফ তৈরী করলাম। সিডিএফ গঠনে অবশ্যই ফজলে হাসান আবেদ ভাইয়ের বিরাট অবদান আছে। কিন্তু সফিক ভাইয়ের কাছে আমরা যখন যা চেয়েছি, তা দিতে উনি কোন কার্পণ্য করেননি। উনি বলতেন, সুখেন বাবু এটা করেন। এটা আমাদের সেক্টরের জন্যই দরকার। যখন বললাম, এনাম ভাইকে আমাদের প্রয়োজন। উনি বলেছিলেন, ঠিক আছে এনামকে নিন, কোন অসুবিধা নেই।

একইভাবে যখন এডাব ভেঙে এফএনবি হলো। সাভারের গণস্বাস্থ্যে মিটিং হলো। সেখানে উনি বললেন, ‘ঠিক আছে করেন’। নেটওয়ার্ক তৈরি করার ব্যাপারে যখনই নতুন কিছু এসেছে উনি দারুণভাবে সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন। ওনার আরেকটি খুবই ভালো উদ্দ্যোগ ছিল। সেটা হচ্ছে, ছোট এনজিওদের সাপোর্ট করা।

একজন বক্তা ভারতের বন্ধনের কথা বলেছেন। আমি যখনই ভারতে ভ্রমণে যাই বন্ধন ভিজিট করি। বন্ধনের কর্মীদের সাথে মিটিং করি। বন্ধনের সবকিছু আশাকে অনুসরণ করে তৈরী করা হয়েছে। আজকে বন্ধন ভারতে ব্যাংক করেছে এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতেও প্রভূত নাম করেছে। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী যদি সহায়তা না করতেন, তাহলে হয়তো বন্ধন আজকের এই বন্ধন হতে পারতো না।

বাংলাদেশের ভেতরেও অনেক এনজিও আছে যারা আশার থেকে সাপোর্ট পেয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। আমার মনে হয় এনজিও সেক্টরের সকলেরই উচিৎ আশার self-sustainable model অনুসরণ করা। তাহলে কাউকেই আর অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।

রফিকুল ইসলাম

ডিরেক্টর, এফএনবি

আশার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন একজন চিরতরুণ মানুষ। তিনি সবসময় নিজেকে তরুণ ভাবতেন এবং অন্যদের সেরকম ভাবতে অনুপ্রেরণা দিতেন। তিনি ভাবতেন, যতদিন পৃথিবীতে একজন দরিদ্র মানুষ থাকবে ততদিন আশা থাকবে। পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আশার কাজ বন্ধ হবে না। আশা ও মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী একে অপরের পরিপূরক। ব্র্যাক সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশল নিয়ে গেছে সাধারণ মানুষের দ্বারে, আশা সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে গেছে ক্ষুদ্রঋণ এবং গণস্বাস্থ্য সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গেছে। আমাদের ছোট্ট দেশ থেকে উন্নয়নের একেকটি অনন্য মডেল উদ্ভাবিত হয়েছে। এই ধারাকে বর্তমান নেতৃত্বে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এই আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

মোঃ এনামুল হক

চিফ অপারেটিং অফিসার
আশা ইন্টারন্যাশনাল
গ্রুপ পিএলসি

আমি প্রায় ৩৫ বছর আশার প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তাঁর সঙ্গে দেশে ও বিদেশে নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। কাজ করতে গিয়ে কখনও মনে হয়েছে তিনি আমার বন্ধু, কখনও মনে হয়েছে তিনি আমার অভিভাবক, কখনও সহকর্মী। কর্মী-বান্ধব পলিসিকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। নারী কর্মীরা নিজের উপজেলায় কাজ করবে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকুরী করলে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কর্মস্থল হবে ইত্যাদি সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। কনস্যালটেন্সির মাধ্যমে বিদেশ থেকে আশা প্রচুর অর্থ অর্জন করেছিল। যা পুরোটাই তিনি কর্মী কল্যাণে ব্যয় করার নীতিমালা অনুমোদন করে গেছেন। এছাড়া তিনি একনাগারে ১০ বছর সেবাগ্রহণকারী সদস্যদের জন্য এককালীন অবসর ভাতা চালু করে গেছেন।

তিনি ছিলেন উদ্ভাবনী চিন্তার মানুষ। সারাক্ষণ নতুন কিছু করার জন্য মুখিয়ে থাকতেন। নতুন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় হতো। কীভাবে এ সময় ও অর্থ সাশ্রয় করা যায় তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে ভাবতে লাগলেন। একদিন বললেন, পুরানো নিয়মে আর প্রশিক্ষণ নয়। এখন থেকে একজন পুরাতন কর্মী, একজন নতুন কর্মীকে হাতে কলমে কাজ শেখাবেন। সেই থেকে চালু হয়ে গেল আশার Each one teach one প্রশিক্ষণ পদ্ধতি। এর ফলে হাজার হাজার নতুন কর্মীকে বিনা ব্যয়ে কার্যকর প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হয়েছিল -যা এখনও চলছে।

ব্র্যাক আশার এ মডেল পছন্দ করলো। ব্র্যাকের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা আশার একটি ব্রাঞ্চ পরিদর্শন করে আশা উদ্ভাবনগুলোর বেশকিছু নিজেদের প্রতিষ্ঠানে চালু করেছিল। সদস্যরা যখনই চাইবে তখনই সঞ্চয় ফেরত দিতে হবে, এ নিয়ম প্রথম আশা চালু করে। আশার প্রতিষ্ঠাতা একদিন বললেন মানুষ তার দুঃসময়ের প্রয়োজনে সঞ্চয় করে। বিপদের সময়ে যদি তারা সঞ্চয় ফেরত নিতে না পারে তবে সঞ্চয় করে লাভ কী? এরপর থেকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে এক বড় পরিবর্তন আসে। তাঁর একান্ত আগ্রহে আশা অনেকগুলো ছোট ছোট এনজিওকে তহবিল ও অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সহায়তা করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি জাতীয় স্তরে উঠে এসেছে।

তাঁর চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-জ্ঞান ছিল আশার উন্নয়নকে ঘিরে। তিনি কর্মীদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনতেন এবং যুক্তিসঙ্গত হলে তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করতেন। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরী করে গেছেন, যেগুলোর মাঝে তিনি বেঁচে থাকবেন।

মাহবুবা হক

এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর
ইনাফি বাংলাদেশ

তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আশার কর্মীদের সঙ্গে গভীরভাবে মেশার সুযোগ হয়েছে। আমি আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করেছি আশার কর্মীদের কাজের প্রতি অঙ্গীকার ও নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতি দরদ অনেক গভীর। কারণ আশার কর্মীদের চাকুরির নিরাপত্তা বেশ ভাল। এর মাঝেই আশার প্রতিষ্ঠাতার দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধের বিষয়টি সহজেই উপলব্ধী করা যায়।

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন কর্মী অন্তপ্রাণ নেতা। আমার সঙ্গে দেখা হলেই তিনি বলতেন, আশার আদলে একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠার কথা। এছাড়াও, ঋণী সদস্যদের অবসর ভাতা চালু করার কথাও তিনি বলে গেছেন। আমি আশা করি আশার ভবিষ্যত নেতৃত্ব তাঁর অপূর্ণ কাজগুলোকে পূর্ণ করবে।

একেএম আমিনুর রশিদ

এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর
আশা ইন্টারন্যাশনাল

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী কাজ, একাগ্রতা, সাধনা ও মূল্যবোধ দিয়ে আমাদের সামনে এক অসাধারণ উদাহরণ তৈরী করে গেছেন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন তাই কাজে পরিণত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতেন। তাঁর কথায় ও কাজে কোন তফাৎ ছিল না। এ রকম আরেকটি মানুষ এ সেক্টরে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। ১৯৯২ সালে আমি যখন আশাতে যোগদান করি। তখন অনেকেই বলতেন, যেভাবে আশা কাজ করছে, তাতে এ প্রতিষ্ঠান বেশীদিন টিকে থাকতে পারবে না। আশার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমার ওরিয়েন্টেশন বদলে গেল। কারণ আশার কাজের ধরন ও মডেল আমাকে বদলে দিয়েছিল। এর পিছনে ছিল মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব ও দূরদর্শিতা।

তাঁর কাজের পরিধি সম্পর্কে অল্পকথায় বলা প্রায় অসম্ভব। নেতৃত্বের যে মানে তিনি উন্নীত হয়েছিলেন তা ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরে বিরল। আমরা যদি তাঁর গুণাবলী ধারণ করে সেগুলোকে আমাদের কাজে প্রতিফলন ঘটাতে পারি, তবেই তাঁর প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে।

তাহরুন্নেছা আবদুল্লাহ

সমাজকর্মী ও
সাবেক চেয়ারপারসন,
আশা

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সাথে আমার অনেক দিনের পরিচয়, সেই ষাটের দশকে। তখন আমি কুমিল্লা বার্ডে ট্রেনিং সেকশনে কাজ করি। সফিক এবং কয়েকজন প্রতিশ্রুতিবান ছেলে তখন বার্ডের গবেষণা বিভাগে কাজ করতো। ট্রেনিং সেকশনের কাজে আমাকে প্রায় ওদের সাহায্য নিতে হতো। সহজ, সরল ও কর্মতৎপর ছেলে সফিককে ডাকলেই সানন্দে চলে আসতো। ১৯৭৮ সালে সফিক কয়েকজন তরুণকে নিয়ে আশা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে তারা গ্রামের উন্নয়নে কাজ করে, পরে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে মনোনিবেশ করে। সে সময় আমি পুনরায় সফিকের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাই। আমি আশার পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলাম। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিতেন না। সহকর্মী ও গ্রুপ মেম্বারদের মতামত নিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিতেন। সফিকের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত, গর্বিত।

মনজুরুল আহসান বুলবুল

সিনিয়র সাংবাদিক

আশার একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া এবং আমার সাংবাদিক হিসেবে পরিণত হওয়া বলতে গেলে একই সময়ে ঘটেছে। খুব কাছে থেকে আশার পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করার সুযোগ আমার হয়েছে। ২৫-৩০ বছর আগে মিডিয়ার সঙ্গে এনজিওদের সম্পর্ক খুব একটা ভাল ছিল না। সেই সময়ে কয়েকজন ব্যক্তি মিডিয়ার সঙ্গে এনজিওর সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। যাদের অগ্রগণ্য ছিলেন, মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্যার ফজলে হাসান আবেদ, কাজী ফারুক ও খুশী কবির প্রমূখ। সফিক ভাই বলতেন, বুলবুল আপনি তো সমাজ পরিবর্তনে বিল্পবের জন্য কাজ করেছেন, পারেন নাই বলে সাংবাদিকতায় এসেছেন। আমিও তাই করেছি, পারি নাই তাই এখানে এসেছি। আসেন একসঙ্গে কাজ করি।

আজকের অনুষ্ঠানে যারা অংশ নিয়েছেন তারা উপলব্ধি করতে পারছেন আশার বিশালত্ব। ফিলিপাইন, ভারত, আফ্রিকার ঘানা, সিয়েরালিয়নে গিয়ে দেখেছি আশার কর্মীদের। তারা সেখানে দারিদ্র্য বিমোচন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। এ অসাধারণ কৃতিত্বের একক দাবীদার হচ্ছেন মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী।

অনেক বছর আগের কথা। আশা সম্পর্কে একটি নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়েছিল একটি জাতীয় পত্রিকায়। তখন উনি আমাকে ডাকলেন এবং পরামর্শ চাইলেন। আমি এসে দেখলাম পত্রিকার জন্য প্রতিবাদ লিপিতে উনি নিজেই স্বাক্ষর করছেন। আমি তাঁকে বললাম, আপনি এ প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক। আপনি যদি একটি পক্ষ নেন, তাহলে সমাধান দেব কে? উনি বললেন তাহলে করণীয় কী? বললাম, আপনি শুধু পলিসি পেপার ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলোতে স্বাক্ষর করবেন। বাকীগুলো অন্যদের ওপর ছেড়ে দিন। পরবর্তীকালে উনি একদিন আমাকে বললেন, তখন থেকে সব কাগজে সই করি না। কথাটা শোনার পর সম্মানিত বোধ করলাম। কারণ আমার একটি পরামর্শ তিনি গ্রহণ করেছেন।

তাঁর বিবেচনা বোধ ছিল অসাধারণ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা থাকার সময়ে একটি ঘটনা মনে পড়ছে। একদিন তিনি আমাকে তাঁর সরকারি দপ্তরে ডাকলেন। বললেন আপনাকে একুশে পদক দিতে চাই। আপনি আমার প্রিয় মানুষ। আমার কাছে সুযোগ এসেছে। এ সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই। আমি বললাম আমার চেয়ে অনেক সিনিয়র সাংবাদিক আছেন, যারা এখন পর্যন্ত একুশে পদক পাননি। এখন যদি আমি একুশে পদক পাই, তাহলে মানুষ আমাকে গালি দেবে এবং সাথে সাথে আপনাকেও দেবে। আমি প্রেসক্লাবে যেতে পারবো না। আমার কথাগুলো তিনি শুনলেন এবং বললেন আপনার কাছ থেকে এই উত্তরটাই আশা করেছিলাম।

আমি বিশ্বাস করি আশার বর্তমান নেতৃত্ব সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতার সূচিত কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাইলেই তাঁর প্রতি সম্মান দেখানো হবে।

Praful Patel

Former Vice President, World Bank

I am so sorry that I could not be there personally with you all in Dhaka to celebrate dear Shafiq Bhai’s life and legacy.

I am Praful Patel, former Vice President of the World Bank and a board member of ASA International.

I first met Md. Shafiqual Haque Choudhuary 20 years ago during one of my visits to Dhaka. And from the very first moment, I got very impressed with him with his humility, with his humanity and his tremendous and energetic dedication to the mission of ASA, which he founded and led right up to his untimely sad demise.

There are simply too many qualities and contributions of Shafiq Bhai for me to be able to share with you in a short tribute. He was a truly inspirational leader who made a difference in the lives of many.

I am personally benefited greatly from his friendship and learned more about microfinance and poverty alleviation programs then in my MIT degrees or in my years in the World Bank. And I shall be eternally grateful for that.

I will miss him dearly. But we all take inspiration from him to continue his legacy with renewed vigor, so that ASA can reach greater heights. Finally, I would like to thank his family for sharing him with us. May he rest in peace.

Sam Daley Harris

Former Director
Microfinance Summit Campaign
USA

It’s so wonderful to be with you, it’s fore in the morning in Princeton, New Jersey, and it’s so wonderful to be with all friends remembering Shafiq.

The first time I spoke to Shafiq, he told me about attending the first Microcredit Summit in 1997 in Washington DC. I think he said it was his first trip to the US. The summit was in February and it was very cold. He told me that he didn’t own a winter coat at that time. As I got to know him, I would come to see his passion for ending poverty, his passion for efficiency and his passion for making a difference.

It was inspiring to be with him and to feel his energy; Shafiq was clearly one of a kind and will be deeply missed. The world needs more people like Shafiq, more people with his energy and his passion for serving the poor. My condolences to his family both his personal family and his ASA family. May he rest in peace.

Dirk Brouwer

CEO,ASA International
Group PLC,UK

I met Shafiq for the first time in 2004 in a little village in Switzerland where a small group of microfinance leaders and potential investors convened to discuss the potential for setting up an equity fund to invest in microfinance institutions across Asia and Africa.

From the moment Shafiq and I met, I was very impressed by him. By his down to earth directness, ability to make and steadfastly drives through decisions as well as his humility. Despite the great success yet already had in building ASA NGO as one of the world's leaders in microfinance.

For some reasons Shafiq and I really connected it at that meeting and at subsequent meeting with the same group of people in Dhaka. In many ways we complemented each other so well, and this states like that for 17 years, we worked together so closely and tried to build ASA International as a force for serving low-income female micro entrepreneurs across Asia and Africa.

During all those years, I cannot really remember a serious arguments between us on how to resolve problems we faced in building the company. And even if initially disagreed on certain matters, we generally let time help us in arriving at the mutual decision. We crisscrossed the world for so many years initially for rising funds for deathless microfinance investors in Silicon Valley, Wall Street and various European financial capitals and subsequently was building ASA International into a leading microfinance institution across Asia and Africa.

Other than with Elisabeth and our kids I do not think that there's anyone in the world. I've shared stead many mules with over time our relationship developed into a deep friendship based on mutual respect and a true sense of kinship.

Besides are many business meetings, we often were able to steal some time from our busy schedules to do some shopping together. Just like today when I convinced Shafiq to buy a formal business suit at several row in London, which we calls your IPO suit.

I hoped it will give his family comfort that their husband and father is widely recognized not only as one of the world's leader of financial inclusion as also as a kind-hearted human being who committed his life to serving the poor and disadvantaged in Bangladesh and across the world.

His legacy will continue and it’s up to us now that ASA international do continue also his selfless work.

I'm extremely grateful for our friendship and I will deeply miss the work we did together our extensive discussions and just being together. Dear Shafiq, may you rest in peace.

Dr. Jaime AristotleB. Alip

Founder and Chairman
CARD MRI, Philippines

Today, we remember the life of a selfless leader, my good friend, brother and mentor of CARD MRI, Philippines. Mr. Shafiqual Haque Choudhury.

I will always remember him, the man who taught us that we have to be selfless, humble so that we can give the best service to the marginalized community.

His leadership as ASA Bangladesh Founder-President was compared to Henry Ford by the Asian Development Bank. Because of insistence and simplicity and therefore low-cost nature of ASA operation through standardization products and simplification of procedures with careful consideration of the institutional financial help.

But in every battle, there will come a time when a general must rest. Shafiqual Haque Choudhury has fought a long and meaningful battle and it is now up to us to continue the legacy to the world.

His contribution to the global mission of poverty eradication will be always remembered and celebrated. Rabeya, Tanvir, Tanzil and Tushir, I am one with you to remember Shafiq’s life. You will always have a family in us here at CARD MRI to support you. Let’s assured even Shafiq is no longer with us, I will always be uncle Alip.

In order to keep Shafiq’s legacy and life CARD MRI, Philippines will establish the Shafiq Choudhury Memorial Scholarships Fund. CARD MRI will endow an initial fund of 100 thousand US Doller to the said scholarships and will continue to build that.

The fund will enable us to send qualified students so that we can produce future leaders with a mart of excellence and dedication similar to Shafiq’s.

We will also place marker at CMDI nook of memory alongside Philippines’ former President Corazon Aquino. The nook of memory is a place we recognized and immortalized community development leaders like Shafiq. We know all of these; we never be enough to show how extremely grateful we are to Shafiq.

But we hope that through these endeavours his legacy will always remain an inspiration not only to us but also to the next generation of community development practitioners.

Guy Dawson

Chairman
ASA International
Group plc, UK

Good afternoon everyone, I just want to say that in my 45 years of business life, Md. Shafiqual Haque Choudhury is the most remarkable leader I have ever met and worked with. He uniquely combined an unwavering social mission with the vision and drive to fulfil that mission through building to highly successful organizations in Bangladesh and Worldwide.

All the while remained as a charming humble and kind man. This for me is a unique combination. We at ASA International still guard Md. Shafiqual Haque Choudhury as our spiritual chairman and will strive to preserve and build on his legacy in the future.

M.M. Attanayake

CEO, Lak Jaya Micro Finance Limited,
Sri Lanka

Thank you very much for giving me this opportunity and we thank on behalf of Lak Jaya Foundation, Sri Lanka, all the staff and all group members of Lak Jaya and we sadly miss our president who has let his entire life towards an unending journey.

My personal life, I met him in 2003 in Singapore. And he was very kind to give me some description over the program and I really appreciated it. Then I was fortunate to join ASA as an implementer in 2009.

Actually, he had been a very humble and gentleman. I had the opportunity to meet him couple of times after joining the Lak Jaya. And we always try to do the best for the people as he has sacrificed.

That is the respect could make him as members of this society. I thank you for giving this opportunity and I pray peace for his soul.

S S Bhat

CEO, Friends of Women’s World Banking,
India

It is so shocking to know the demise of Md Shafiqul Haque Choudhury President of ASA. It is a great loss to Bangladesh and the world microfinance community.

His contribution in poverty alleviation would be deeply remembered for all the time to come. A legend passes away making all of us poor and the microfinance clients aghast.

Our heartfelt condolences to the bereaved family and people at ASA. May his legacy and ideologies continue to guide us for better days for the people at the bottom of economic pyramid.

Anjan Dasgupta

Managing Director, ASA International,
India

Demise of Md. Shafiqual Haque Choudhury is a great loss. He had been a guardian and a role model for us. I have always2 held him great hope. In fact, without meeting him. I had implemented the ASA model in my banking days, when I was working in one of the remotest areas in India, which was highly successful. I read about him and about the ASA model. When I first met him for an interview, it was a great moment for me to meet him in person.

Subsequent, I came to Bangladesh for exposure visit on the ASA model and the methodology. It was a great experience. What I liked about him was he had details about people he was working with. He knew that my ancestors were from the Pre-partition Bangladesh in an area called Barisal. So he instructed everyone to send me to Barisal for my exposure visit.

When I came back from Barisal, he asked me what did you actually learn? I told him that it was a wonderful experience. It was so pleasant to know a model which was so simple and so workable. It was a great learning for me.

ASA President Md. Shafiqual Haque Choudhury said that you were working in one of the most underserved areas in India, the northeastern part and the eastern part. He said, “I wanted you to scale up and to reach out to the poorest of the poor. Forget about the costs. You should reach out the people who needed financial assistance immediately.”

My greatest respect to this gentleman. All staff of our ASA International India hold him in greatest of respect and pray for peace to his soul.

Marry Ellen Iskenderian

President & CEO,
Women’s WorldBanking,
New York, USA

The world lost an innovator who dreamt of establishing “a society free from poverty and economic disparity; using sustainable microfinance as a tool to erase the curse of poverty from the world.” The ASA that Shafiq established is known globally for building a low-cost, efficient and commercially-viable model of microfinance.

But beyond building a model for itself, ASA, under the leadership of Shafiq, has been selfless and generous in sharing this model in Bangladesh and with the world. Shafiq’s vision has extended to 13 countries in Asia and Africa through ASA International, which has currently a reach of 2.3 million in addition to the 7 million reach that ASA has in Bangladesh.

ASA joined the Women’s World Banking network in 1999 and by early 2003, ASA was hosting in Dhaka over 17 Network leaders who have adopted or were keen on adapting aspects of ASA’s model. Shafiq’s imprints and legacy in financial inclusion are undeniable.

Women’s World Banking lost a champion for women’s financial inclusion and we lost a friend.

Women’s World Banking worked with ASA to conduct its second Organizational Gender Assessment (OGA) in November of 2008. Shafiq’s support and participation was instrumental in the development of Women’s World Banking’s OGA toolkit. I also remember sharing the stage with Shafiq at the Citi Series on Asian Business Leaders at the Asia Society in New York, where Shafiq shared his wisdom and wit on the topic, “Microfinance Made Simple.”

An inspiring leader, he captured his approach as that of a simple man with a simple way of doing things. I also enjoyed working with Shafiq in our short lived effort to establish ASA Foundation USA with the goal of reaching one million more. Shafiq was so tireless.

We and the Women’s World Banking Network leaders will surely miss him. The grief that his wife Mrs. Rabeya Akhter, their three sons Ashraful, Ariful and Ashiful and their families are experiencing at this time must be unbearable. We send our sincerest condolences. We also send our condolences to Shafiq’s colleagues at ASA and ASA International.

We hope that the knowledge that Shafiq made Bangladesh and the rest of the world a much better place will provide all of you some measure of comfort at this difficult time.

Stuart Rutherford

Financial Inclusion Expert, UK

This is Stuart Rutherford. I'm very sorry not to be with you in Dhaka today to celebrate Shafiq's life in the company of people who knew him and worked with him in ASA in microfinance in Bangladesh and in world development.

Somebody said to me the other day okay Stuart, you've talked about Shafiq's open and friendly personality. But what was it exactly about his character that made him a great and revolutionary microfinance leader. I thought for a bit and I came up with three answers.

First, he was intensely practical. When he devised the ASA method in the early 1990s, he himself designed the simple system, the branch layout and furniture everything. Always simplifying things to make them stronger, cheaper and more likely to succeed.

Second, he was extraordinarily transparent. When I wrote a book about ASA, I was amazed at his willingness to tell me the ASA's story in full, including the faults and errors as well as the successes.

This openness to the truth allowed him to see ASA's work as it really was what's an all. And this clarity of vision allowed him to lead ASA in a realistic way.

Thirdly, he had a very shrewd understanding of human character. And this often helped him to navigate his way through difficulties.

I served on the ASA board for a few years and I often noticed this shrewdness. For example, if he wanted the board to approve some contentious proposal of his, he would first find some trivial matters that he knew his board members would love to talk about endlessly.

That would use up most of the available time, then he push through his proposals with little adverse discussion at the tail end of the meeting. I still chuckled to myself when I think of these things. May he rest in peace.

C.S.Ghosh

MD & CEO, Bandhan Bank, India

Shafiq Bhai’s contribution towards microfinance sector is exemplary and so very valuable. His immense dedication towards building ASA and his charismatic leadership is absolutely noteworthy and will always speak volumes about his commitment towards his work.

He will forever and fondly be remembered by all. His association with Bandhan goes a long way. His immense support during the initial stages of Bandhan was commendable. We always appreciate and value his guidance towards our organization. He readily provided suggestions and valuable advice at various phases. Words are not enough to thank him. We will always remain obliged.

We will miss him dearly. Please accept our heartfelt condolences and extend to other family members and all at ASA. We pray that his soul rests in peace.

Vicente P.Perlas

President and CEO
Life Bank,
Microfinance Foundation,
Philippines

Greetings to all my friends at ASA Bangladesh and for those of you, who do not know me.

I would like to convey my deepest condolences to all of you for the passing of a great leader in microfinance.

I had the privilege to work with Mr. Shafiq, as I call him, for many years starting with the UNDP micro start project.

What we are now I attribute to him. His team of competent staff through the years in the project have to pass the basic foundation of a sustainable microfinance operation.

We have grown substantially since then. And I still continue to have fond memories of him and every time when I make major decisions, I always think of the things that he mentored the things that he said.

He truly was a visionary, he was truly creative and innovative leader, which we will surely miss.

So before I close I would like to give again my heartfelt condolences to all of you. May you continue to be a great organization even without him.I'm sure all of you will carry forward his vision.

As wellness, we will continue to remember him in our hearts. Thank you.

Elisabeth van
Basten Batenburg

Conceptual Initiator
ASA International
Group plc, UK

Shafiq, my very honourable and most generous of friends was passionate, noble, committed, un-corrupted, focused, generous, inclusive, funny, gregarious, curious, loyal, relentless, egalitarian, of deep faith. The list is endless; Shafiq represented all that is good.

I hope, pray, that ASA and ASAI will not ever forget who Shafiq has been, what he has tried to do: he saw each and every one and worked relentlessly for the greater good.

Martijn Bollen

General Counsel
ASA International, Group plc, UK
Philippines

Thank you for allowing me the opportunity to briefly speak about in where I had the opportunity and I'd like to speak from coming from a very different world.

I worked for a commercial law firm back in 2000-2004 and I decided to move away from commercial finance to a different world. And I first met Dirk and later Md. Shafiqual Haque Choudhury and he introduced me to microfinance.

And so I went from big deals of large corporations to small loans to women, which was a major step. And it was really through the work of ASA and the work of Md. Shafiqual Haque Choudhury that I became familiar of the importance to designing products that really help people.

When I speak about microfinance today, and when I talk to my colleagues, they always say the same thing. They tell us microfinance. Yes, it is a business and you can make money but at the end of the day it is a social service and you need to remember that.

I think that is the legacy of Mr. Choudhury that we have to nurture these human relationships because only when the human relationship is healthy and is based on mutual trust. You can be successful as an organization if your organization is built up of people.

I think that's what Mr. Choudhury has told me and my colleagues will forever remember that important lesson.

Roshaneh Zafar

MD, Kashf Foundation,
Pakistan

I was so saddened to hear the news of Shafiq Bhai’s death. He was a great mentor, a great friend and a wonderful human being. I have such fond memories of spending with him in Dhaka and in Lahore, and the generosity he always extended to me in sharing his wisdom and thoughts. You are all in my thoughts.

I wish the best to the family of Shafiq Bhai in the midst of sorrow and comfort in the midst of pain. We have lost a remarkable person in the Microfinance sector of the world. He was a true champion of poverty alleviation and for the cause of women.

He will be truly and sorely missed by all of us. He touched our lives and thoughts in so many ways. May Allah accord him the highest place in Jannah, Ameen.

অজয় দাশগুপ্ত

সিনিয়র সাংবাদিক

সফিক ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমি দৈনিক সংবাদে কাজ করার সময়, ১৯৯২ সালে দৈনিক সংবাদে আশা থেকে একটি লেখা গিয়েছিল। আমি তখন সংবাদের বার্তা বিভাগে কাজের পাশাপাশি অর্থনীতির একটি পাতার দায়িত্বে ছিলাম। লেখাটি পাঠিয়েছিলেন সম্ভবত এনামুল হক সাহেব। আমার মনে হয়েছিল লেখাটা বোধহয় আরেকটু পরিবর্তন করার সুযোগ আছে। তখন আমি আশা অফিসে ফোন করে বলি আপনাদের একটা লেখা পেয়েছি। যদি একটু পরিবর্তন করা যায় তাহলে ভাল হয়। ফোন পেয়েই এনাম সাহেব তো বটেই, সফিক সাহেবও সাড়া দিলেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলে লেখার কিছুটা পরিবর্তন করে দিলেন, সেই সূচনা। এরপর থেকে তিনি বেশ নিয়মিতই যোগাযোগ করতেন। আমিও মাঝে মধ্যে যোগাযোগ করতাম।

আজকের এই দিনে তাঁকে আমি স্মরণ করি। সবশেষে একটি কথা বলবো, তিনি আমাকে বলতেন, যে প্রতি ব্রাঞ্চে আমরা ৬-৭ জন কর্মী নিয়োগ করি। আমাদের সাংগঠনিক ব্যয়, প্রশাসন পরিচালনার ব্যয় ন্যূনতম রাখতে সব সময় চেষ্টা করি। যাতে ঋণ গ্রহীতাদের ওপরে এই চাপটা গিয়ে না পড়ে। এই বিষয়টি সকল সংগঠনের জন্য শিক্ষণীয় বলে আমি মনে করি। সফিক ভাই, আপনাকে স্মরণ রাখবো চিরদিন।

শিব নারায়ণ কৈরী

সিনিয়র এ্যাডভাইজার (ফিন্যান্স)
সাজেদা ফাউন্ডেশন

সফিক ভাই যে মডেল প্রতিষ্ঠা করেছেন তা বিশ্বব্যাপী আদর্শ Financial মডেল। সফিক ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। সফিক ভাই এবং আমি একই উপজেলার মানুষ। সফিক ভাই আমাকে পছন্দ করতেন, মাঝেমাঝেই আমাকে ফোন করতেন। উনি যে কোন ব্যাপারে আমাদের গাইড করতেন, বিশেষ করে মাইক্রোফিন্যান্সের বিষয়ে।

স্যার ফজলে হোসেন আবেদের সঙ্গে সফিক ভাইয়ের সম্পর্কটা ছিল বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের। আবেদ ভাইয়ের সঙ্গে তিনি যখনই দেখা করতে যেতেন, বলতেন, ‘কৈরী, আপনি কিন্তু সঙ্গে থাকবেন’। তো আমি বলতাম কেন,হাসতে হাসতে বলতেন, আপনি যদি না থাকেন তাহলে আবেদ ভাই অনেক বিষয়ে আমাকে ধরবেন। বলবেন, এটা করো, ওটা করো। আপনি থাকলে উনি সেসব বলতে পারবেন না। আবেদ ভাই আমার বড় ভাইয়ের মত। উনি কিছু বললে আমি না করতে পারবো না। সে রকম একটা ঘটনা বলি। একদিন উনি আবেদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। আমাকেও নিয়ে গেলেন। সেখানে আবেদ ভাই বললেন, সফিক, এ কাজটা আমরা করতে চাইছি, তুমি এখানে কিছুটা অংশগ্রহণ করো। কিন্তু সফিক ভাই ওই কাজে যুক্ত হতে চাইছিলেন না। কিন্তু তিনি আবেদ ভাইকে মুখে বলবেন না, যে তিনি ওটা করবেন না।

উনি আবেদ ভাইকে বললেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে দেখি। আমার তো বোর্ড আছে, তারা কী বলে।’ সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি আমাকে ফোন করলেন। বললেন, কৈরী বাবু আমি তো এ কাজটা করতে চাইছি না। তবে আমি তো বলতে পাববো না, আপনি আবেদ ভাইকে একটু বুঝিয়ে বলবেন। আমি আবেদ ভাইকে গিয়ে বললাম, সফিক ভাই তো এটা করতে চায় না। আবেদ ভাই হাসলেন আর বললেন, ‘সফিককে তো আমি চিনি। ও সব সময় সরল মনে চিন্তা করে। মাইক্রোফিন্যান্স ছাড়া অন্য কিছু করতে চায় না। ওর ধ্যান-জ্ঞান সব মাইক্রোফিন্যান্সকে ঘিরে।’

সফিক ভাই একদিন আমাকে ফোন দিয়ে বললেন, ‘কৈরী বাবু আমরা চিন্তা করছি, মহিলাদের জন্য একটা ব্যাংক গড়ে তুলবো। সেটা হবে Women’s Bank in Bangladesh. আমি তখন বললাম, যদি এটা হয় তাহলে তো ভালোই। উনি বললেন, তাহলে আপনি আবেদ ভাইয়ের সঙ্গে একটু শেয়ার করেন। উনি যদি আমাদের সাপোর্ট করেন, তাহলে আমরা বিষয়টি নিয়ে এগুতে পারি। সফিক ভাই সব সময় উদ্ভাবনমূলক চিন্তা করতেন। সফিক ভাইয়ের শেষ স্বপ্ন ছিল মহিলাদের জন্য একটি ব্যাংক করার। সেটা করতে পারেননি। তাঁর যারা উত্তরসূরী আছেন, আমার মনে হয় তারা বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী

প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি
গণস্বাস্থ্য

দু-চার কথায় মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী সম্পর্কে বলা কঠিন। তিনি ছিলেন একজন অপূর্ব ভদ্রলোক ও সজ্জন ব্যক্তি। গরীব মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন - যা বেশী মানুষ করতে পারেনি। তিনি কিছু কাজ করেছেন, যা ব্র্যাক পরে করেছে। যেমন, একজন সেবাগ্রহণকারী সদস্য মারা গেলে অবশিষ্ট ঋণ পরিশোধ করতে হবে না। সদস্য মারা গেলে বকেয়া তো দিতে হবেই না বরং তার দাফন-কাফনের জন্য আশার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। এ ব্যবস্থা মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী করে গেছেন।

তাঁকে বহুবছর ধরে দেখে আসছি। তাঁর অনেক কাজ সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। আশার সাফল্যের কারণ হচ্ছে, তিনি সাধারণ মানুষকে আশার কর্মসূচিতে যুক্ত করতে পেরেছিলেন। বন্যার সময় আশার কর্মীরা লুঙ্গি পরে দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। এ রকম একজন কৃতি মানুষ অকালে চলে গেলেন। তাঁর অবদানের কথা একটা দুটা শোক সভায় বলা সম্ভব নয়।

তিনি আশা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য কাজ করেছেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়ায় সহায়তা দিয়েছেন। প্রকৃত অর্থেই তিনি ছিলেন একজন উদ্ভাবক। তাঁকে স্মরণ রাখা আমাদের দায়িত্ব। তার অপূর্ণ স্বপ্নকে যেন আশার বর্তমান নেতৃত্ব পূর্ণ করে এগিয়ে যায় এটাই আমার কামনা।

ড. হোসনে-আরা বেগম

নির্বাহী পরিচালক
টিএমএসএস

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন আমাদের সবার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন মানুষ ও গুরু। যখন টিএমএসএস এর জন্ম হয়েছিল তখন এটি ভালভাবে সংগঠিত ছিল না।টিএমএসএসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়তই সফিকুল হক চৌধুরীসাহেবের পরামর্শ নিয়েছি। উনি আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন।

আমি সরকারি চাকরি করতাম, সে সময় আমার বোর্ড থেকে চাপ আসলো, সরকারি চাকরি ছেড়ে না দিয়ে আসলে নির্বাহী ক্ষমতায় থাকা বেমানান। এতে সংস্থার শুদ্ধাচার থাকে না। সফিক ভাইকে যখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম তখন উনি এক বাক্যে বললেন, চাকুরি ছেড়ে দিন। উনি বললেন, সরকারি চাকুরি করে আপনি যত মানুষের উপকার করতে পারবেন, টিএমএসএসকে ভালভাবে গড়ে তুলতে পারলে তার চেয়ে বেশী মানুষের উপকার করতে পারবেন।

তিনি বলতেন, যদি কম খরচে সহজ পন্থায় দরিদ্র মানুষের দ্বারপ্রান্তে সেবা পৌঁছে দিতে পারেন তাতে দরিদ্র মানুষের কল্যাণ হবে। নারীদের দুঃখ-দুর্দশা দূর হবে। এ কথাগুলো সফিক ভাইয়ের কাছ থেকে শুনেছি। আজকে আবেদ ভাই নাই, সফিক ভাই নাই, আমাদের মধ্যে শূন্যতা বিরাজ করছে।

জাকির হোসেন

নির্বাহী পরিচালক
ব্যুরো বাংলাদেশ

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছি। দেশি- বিদেশি অনেক বন্ধু ওনার জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন। আমি একজন প্রাকটিশনার হিসেবে মনে করি, উনি ক্ষুদ্রঋণ জগতের একজন অসাধারণ বোদ্ধা ব্যক্তি ছিলেন।

উনি ক্ষুদ্রঋণকে ভিন্নভাবে দেখেছিলেন। উনি আমাদের চেয়ে অনেক ভালোভাবে মাইক্রোফিন্যান্সকে বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণে স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে খুব সহজে দরিদ্র মানুষের হাতে ক্ষুদ্রঋণ পৌঁছানোর একটা চমৎকার ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন - যা ম্যাজিকের মতো কাজ করেছিল - যা আশাকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও এই মডেলটি অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। দেশে-বিদেশের প্রায় ৮০-৯০ লাখ দরিদ্র মানুষ আশা থেকে সুফল পাচ্ছে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আশা বিরাট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

আরেকটা বিষয় আমাকে খুবই চমৎকৃত করে, সেটি হলো আশা এমন পদ্ধতি রপ্ত করেছে যেটা করতে আমরা এখনও সাহস পাই না। বিশেষ করে সদস্যের দ্বারপ্রান্তে সঞ্চয় ফেরত দেয়া এবং সেখানেই সদস্যদের ঋণ দেয়া। অর্থাৎ প্রচলিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গ্রামেই মানুষদের ঋণ দেয়া এবং সঞ্চয় ফেরত দেয়ার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, এটা ক্ষুদ্রঋণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

2

এছাড়া আশাকে আত্মনির্ভরশীল করা, বিদেশে আশা মডেল সম্প্রসারণ করা। যখন একটা জায়গায় সফল হলো, সেটাকে অনেক বড় পর্যায়ে, ব্যাপক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা, এটা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। এ কাজে তিনি সফল হয়েছেন।

একটা স্মরণ সভার মাধ্যমে ওনার কাজকে মূল্যায়ন করা যাবে না। সবচেয়ে ভাল হয় যদি ওপর একটি স্মারক গ্রস্থ প্রকাশ করা হয়। যে গ্রন্থ থেকে পরবর্তী প্রজন্ম অনেক কিছু শিখবে ও জানবে। আমি আশা করি, তাঁর উত্তরাধিকারী ও সহকর্মীগণ মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

মোঃ নুরুল ইসলাম

সাবেক অধ্যাপক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সফিকুল হক চৌধুরী সম্পর্কে কথা বলতে গেলে সুদূর অতীতে ফিরে যেতে হয়, সেটা ১৯৬৫ সাল। ৫৬ বছর ধরে এই ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার বন্ধন। আপনারা তাঁর সম্পর্কে অনেক কথা বললেন। আমি সফিককে একজন অন্য মানুষ হিসেবে জানি।

সফিক ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয় ১৯৬৫ সালে। আমার এক বছর পর। সেই থেকে কীভাবে আমাদের সম্পর্কটা এতটা অন্তরঙ্গ হয়ে গিয়েছিল, বলে বোঝাতে পারবো না। আমি যেখানেই গেছি, সফিক সাহেব আমাকে টেনে বের করে এনেছেন। আরে নুরু ভাই কোথায়? তিনি মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছেন এবং লাখ লাখ মানুষকে সেবা দিয়েছেন। আমি আশা করি তাঁর প্রতিষ্ঠান আরও অনেক দিন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। আমি পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য প্রার্থনা করি।

ড. আতিউর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক
এবং বাংলাদেশ
ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেকদিনের। তখন তিনি আশা কেবল শুরু করেছেন। সেখান থেকে আজ আশা একটি মহিরূহে পরিণত হয়েছে। সত্যিকার অর্থেই আশা গরীব মানুষদের মাঝে আশা জাগিয়ে তুলতে পেরেছে। প্রতিষ্ঠানটির সৌন্দর্য হলো এটি সহজ ও সাধারণ। আমি যতগুলো ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা দেখেছি, সেগুলোর মধ্যে আশা হচ্ছে সব থেকে সহজ ও সাধারণ। আর এটিই হচ্ছে আশার সৌন্দর্য।

আশার কাজকে সহজেই বোঝা যায়। ফলে এই মডেল খুব দ্রুত প্রতিস্থাপন করা যায়। বিশ্বের নানা দেশে আশাকে অনুসরণ করে দারিদ্র্য নিরসন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমি এখানে ভারতের বন্ধন ব্যাংকের কথা উল্লেখ করবো। এটি এখন ভারতে সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যারা আশা মডেল অনুসরণ করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

সমাজ উন্নয়নের অন্যতম প্রবক্তা মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন একাগ্র চিন্তার মানুষ। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি গোটা পৃথিবীর মাঝে একটি বন্ধন রচনা করেছেন: দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক উন্নয়নের বন্ধন। সিডিএফ এর চেয়ারপারসন হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর অভিজ্ঞতা ও লব্ধ জ্ঞান থেকে উপকৃত হয়েছিলাম। তিনি সাধারণ মানুষের শক্তি ও সামার্থ্যরে ওপর ভরসা করতেন। বাংলাদেশকে এক সময় অনেকেই তলাবিহীন ঝুড়ি মনে করতো। বাংলাদেশের আজকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পেছনে তাঁর মতো কর্মবীরের অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁর আত্মার প্রতি জানাই আমার গভীর শ্রদ্ধা।

সুখেন্দ্র কুমার সরকার

সাবেক নির্বাহী পরিচালক
আরডিআরএস

সফিক ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় আশির দশকে। আমি তখন ব্র্যাকের প্রতিনিধি হিসেবে এডাবের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে ছিলাম। উনি খুব স্পষ্টবাদী মানুষ ছিলেন। যেটা বলা দরকার উনি তা সামনাসামনি বলে দিতেন। তাঁর সঙ্গে গভীরভাবে পরিচয় হলো, যখন আমরা ১৯৯২ সালে সিডিএফ তৈরী করলাম। সিডিএফ গঠনে অবশ্যই ফজলে হাসান আবেদ ভাইয়ের বিরাট অবদান আছে। কিন্তু সফিক ভাইয়ের কাছে আমরা যখন যা চেয়েছি, তা দিতে উনি কোন কার্পণ্য করেননি। উনি বলতেন, সুখেন বাবু এটা করেন। এটা আমাদের সেক্টরের জন্যই দরকার। যখন বললাম, এনাম ভাইকে আমাদের প্রয়োজন। উনি বলেছিলেন, ঠিক আছে এনামকে নিন, কোন অসুবিধা নেই।

একইভাবে যখন এডাব ভেঙে এফএনবি হলো। সাভারের গণস্বাস্থ্যে মিটিং হলো। সেখানে উনি বললেন, ‘ঠিক আছে করেন’। নেটওয়ার্ক তৈরি করার ব্যাপারে যখনই নতুন কিছু এসেছে উনি দারুণভাবে সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন। ওনার আরেকটি খুবই ভালো উদ্দ্যোগ ছিল। সেটা হচ্ছে, ছোট এনজিওদের সাপোর্ট করা।

একজন বক্তা ভারতের বন্ধনের কথা বলেছেন। আমি যখনই ভারতে ভ্রমণে যাই বন্ধন ভিজিট করি। বন্ধনের কর্মীদের সাথে মিটিং করি। বন্ধনের সবকিছু আশাকে অনুসরণ করে তৈরী করা হয়েছে। আজকে বন্ধন ভারতে ব্যাংক করেছে এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতেও প্রভূত নাম করেছে। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী যদি সহায়তা না করতেন, তাহলে হয়তো বন্ধন আজকের এই বন্ধন হতে পারতো না।

বাংলাদেশের ভেতরেও অনেক এনজিও আছে যারা আশার থেকে সাপোর্ট পেয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। আমার মনে হয় এনজিও সেক্টরের সকলেরই উচিৎ আশার self-sustainable model অনুসরণ করা। তাহলে কাউকেই আর অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।

মোঃ আব্দুল আউয়াল

এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর
সিডিএফ

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয় দুই দশকের বেশী। তাঁর সঙ্গে বিশ্বের নানা স্থানে ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচন সংক্রান্ত অনেকগুলো সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ আমার হয়েছে।

তাঁর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশ্বের উন্নয়ন সেক্টরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল কিংবদন্তীতূল্য। তিনি অস্টেলিয়ার ব্রিজবেনভিত্তিক নেটওয়াক সংস্থা Banking with the Poor এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। সেই নেটওয়ার্কের সম্মেলনে ভিয়েতনাম গিয়েছিলাম। সেখানে মূল বক্তা ছিলেন মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী। তখন বোর্ড নির্বাচন হচ্ছিল। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আউয়াল আপনি নির্বাচনে কনটেস্ট করুন। আমি বললাম, আমাকে তো কেউ চেনে না। কে আমাকে ভোট দেবে। তিনি বললেন, সে দায়িত্ব আমার। ভোট গণনার পরে দেখা গেল আমি বিজয়ী হয়েছি। সফিক ভাইয়ের ডিপ্লোমেসির কারণে আমি অপরিচিত হয়েও ভোটে জিতে গেলাম।

একবার একটি সম্মেলনে চীনে গিয়েছিলাম। সেখানে সফিক ভাই ছিলেন। সেই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা দেখে আমি অভিভ‚ত হয়ে যাই। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তিন পুরোধা যথাক্রমে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী। এই তিন ব্যক্তিত্বের মাঝে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ ছিল অতুলনীয়। স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সফিকুল হক চৌধুরীর আদর্শ যেন বর্তমান নেতৃত্ব লালন করে এগিয়ে নিয়ে যায়, এই আমার একান্ত প্রত্যাশা।

রফিকুল ইসলাম

ডিরেক্টর, এফএনবি

আশার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন একজন চিরতরুণ মানুষ। তিনি সবসময় নিজেকে তরুণ ভাবতেন এবং অন্যদের সেরকম ভাবতে অনুপ্রেরণা দিতেন। তিনি ভাবতেন, যতদিন পৃথিবীতে একজন দরিদ্র মানুষ থাকবে ততদিন আশা থাকবে। পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আশার কাজ বন্ধ হবে না। আশা ও মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী একে অপরের পরিপূরক। ব্র্যাক সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশল নিয়ে গেছে সাধারণ মানুষের দ্বারে, আশা সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে গেছে ক্ষুদ্রঋণ এবং গণস্বাস্থ্য সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গেছে। আমাদের ছোট্ট দেশ থেকে উন্নয়নের একেকটি অনন্য মডেল উদ্ভাবিত হয়েছে। এই ধারাকে বর্তমান নেতৃত্বে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এই আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

সাবেক গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংক

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর এই স্মরণসভায় উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সফিক এবং আমি সমসাময়িক ছিলাম ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে। আমি অর্থনীতিতে, উনি সমাজ কল্যাণে। আমার সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় হয়েছিল ১৯৮০ সালে। আমি তখন সিরডাপে কাজ করি। তখন থেকে বিভিন্ন স্থানে ও অনুষ্ঠানে সফিকুল হক চৌধুরীর সাথে দেখা হয়েছে। তাঁর কর্মচাঞ্চল্য, তাঁর কর্মতৎপরতা, তাঁর কথা বলার ভঙ্গী ছিল অত্যন্ত চমৎকার এবং তিনি মানুষকে সহজেই মুগ্ধ করতে পারতেন।

সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক - যার জুড়ি নেই। তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের উপকার করেছেন, যে অবদানের কথা কেউ ভুলবে না। সেটিই সফিকুল হক চৌধুরীর সবচেয়ে বড় পাওয়া, আমি মনে করি। আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।

মোঃ এনামুল হক

চিফ অপারেটিং অফিসার
আশা ইন্টারন্যাশনাল
গ্রুপ পিএলসি

আমি প্রায় ৩৫ বছর আশার প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তাঁর সঙ্গে দেশে ও বিদেশে নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। কাজ করতে গিয়ে কখনও মনে হয়েছে তিনি আমার বন্ধু, কখনও মনে হয়েছে তিনি আমার অভিভাবক, কখনও সহকর্মী। কর্মী-বান্ধব পলিসিকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। নারী কর্মীরা নিজের উপজেলায় কাজ করবে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকুরী করলে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কর্মস্থল হবে ইত্যাদি সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। কনস্যালটেন্সির মাধ্যমে বিদেশ থেকে আশা প্রচুর অর্থ অর্জন করেছিল। যা পুরোটাই তিনি কর্মী কল্যাণে ব্যয় করার নীতিমালা অনুমোদন করে গেছেন। এছাড়া তিনি একনাগারে ১০ বছর সেবাগ্রহণকারী সদস্যদের জন্য এককালীন অবসর ভাতা চালু করে গেছেন।

তিনি ছিলেন উদ্ভাবনী চিন্তার মানুষ। সারাক্ষণ নতুন কিছু করার জন্য মুখিয়ে থাকতেন। নতুন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় হতো। কীভাবে এ সময় ও অর্থ সাশ্রয় করা যায় তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে ভাবতে লাগলেন। একদিন বললেন, পুরানো নিয়মে আর প্রশিক্ষণ নয়। এখন থেকে একজন পুরাতন কর্মী, একজন নতুন কর্মীকে হাতে কলমে কাজ শেখাবেন। সেই থেকে চালু হয়ে গেল আশার Each one teach one প্রশিক্ষণ পদ্ধতি। এর ফলে হাজার হাজার নতুন কর্মীকে বিনা ব্যয়ে কার্যকর প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হয়েছিল -যা এখনও চলছে।

ব্র্যাক আশার এ মডেল পছন্দ করলো। ব্র্যাকের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা আশার একটি ব্রাঞ্চ পরিদর্শন করে আশা উদ্ভাবনগুলোর বেশকিছু নিজেদের প্রতিষ্ঠানে চালু করেছিল। সদস্যরা যখনই চাইবে তখনই সঞ্চয় ফেরত দিতে হবে, এ নিয়ম প্রথম আশা চালু করে। আশার প্রতিষ্ঠাতা একদিন বললেন মানুষ তার দুঃসময়ের প্রয়োজনে সঞ্চয় করে। বিপদের সময়ে যদি তারা সঞ্চয় ফেরত নিতে না পারে তবে সঞ্চয় করে লাভ কী? এরপর থেকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে এক বড় পরিবর্তন আসে। তাঁর একান্ত আগ্রহে আশা অনেকগুলো ছোট ছোট এনজিওকে তহবিল ও অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সহায়তা করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি জাতীয় স্তরে উঠে এসেছে।

তাঁর চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-জ্ঞান ছিল আশার উন্নয়নকে ঘিরে। তিনি কর্মীদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনতেন এবং যুক্তিসঙ্গত হলে তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করতেন। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরী করে গেছেন, যেগুলোর মাঝে তিনি বেঁচে থাকবেন।

মোহাম্মদ আজীম হোসেন

হেড অব গ্রুপ ট্রেজারি
এন্ড রিক্স ম্যানেজমেন্ট
আশা ইন্টারন্যাশনাল
গ্রুপ পিএলসি

প্রায় চার দশক মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সান্নিধ্যে থেকে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। শুরুর দিকে আশা দাতাদের থেকে অনুদান গ্রহণ করতো। দাতাদের শর্ত মেনে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা সহজ ছিল না। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী দাতাদের শর্ত ও খবরদারি সহজে মেনে নিতে পারতেন তা। ১৯৮৮ সালে বন্যার পর দুর্গত মানুষদের জন্য আশা একটি ঋণ কর্মসূচি গ্রহণ করে। গ্রহিতারা স্বেচ্ছায় ঋণের একটি বড় অংশ ফেরত দেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ঋণ কার্যক্রম গ্রহণে প্রেরণা দিয়েছিল। আশা ১৯৯১ সালে পুরোদমে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালু করে।

তাঁর বড় গুণ ছিল তিনি সকলের মতামতকে সম্মান করতেন। তিনি যুক্তি দিয়ে কথা বলতেন, অন্যের যুক্তিও মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। কারো মত গ্রহণযোগ্য হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করতেন। বাংলাদেশে আশার অর্জিত অভিজ্ঞতা তিনি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেন এবং সেই উদ্যোগ আজ দারুণভাবে সফল। আজ ১৩টি দেশে আশা মডেল বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং আশার কর্মীরাই তা বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে। আশার বর্তমান কর্মকর্তা ও কর্মীদের প্রতি আমার আহ্বান, সকল কাজে তাঁর চিন্তাকে গুরুত্ব দিন, তবেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে।

মাহবুবা হক

এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর
ইনাফি বাংলাদেশ

তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আশার কর্মীদের সঙ্গে গভীরভাবে মেশার সুযোগ হয়েছে। আমি আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করেছি আশার কর্মীদের কাজের প্রতি অঙ্গীকার ও নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতি দরদ অনেক গভীর। কারণ আশার কর্মীদের চাকুরির নিরাপত্তা বেশ ভাল। এর মাঝেই আশার প্রতিষ্ঠাতার দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধের বিষয়টি সহজেই উপলব্ধী করা যায়।

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন কর্মী অন্তপ্রাণ নেতা। আমার সঙ্গে দেখা হলেই তিনি বলতেন, আশার আদলে একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠার কথা। এছাড়াও, ঋণী সদস্যদের অবসর ভাতা চালু করার কথাও তিনি বলে গেছেন। আমি আশা করি আশার ভবিষ্যত নেতৃত্ব তাঁর অপূর্ণ কাজগুলোকে পূর্ণ করবে।

এম আবদুল আজিজ

সিনিয়র এ্যাডভাইজার
আশা ও
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় আশাকে জনকল্যাণমূলক একটি প্রতিষ্ঠান ও সেবা নেটওয়ার্ক হিসাবে তৈরী করেছেন এবং সেই নেটওয়ার্ক তিনি দেশের বাইরেও ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন, এটি একটি বিরাট সাফল্য। সরকার ও সরকারের বাহিরে তাঁর সঙ্গে কাজ করার আমার সুযোগ হয়েছে। তাঁকে একজন নীতি- নির্ধারক হিসেবে যেমন দেখেছি, তেমনি একজন দক্ষ প্রাকটিশনার হিসেবে দেখারও সুযোগ হয়েছে। ৭২ বছরের জীবনের ৪৩ বছরই তিনি আশার সঙ্গে যুক্ত থেকে সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়েছেন। তাঁর হাতেই আশার জন্ম হয়েছিল ছোট্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে। সেই প্রতিষ্ঠানকে তিনি স্ব-অর্থায়িত, আত্মনির্ভর, টেকসই ও সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

২০০৬ সালে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। আমি তখন কৃষি সচিব। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কৃষি, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা। সরকারে তাঁর মেয়াদ ছিল অল্প কিছুদিন, যা তিনি ভাল করেই জানতেন। তা সত্ত্বেও তিনি নিঃসংকোচে দৃঢ়তার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। সেই সময়ে অনেককেই দেখেছি সীমিত পরিসরে কথা বলতে। কিন্তু তিনি ছিলেন দায়িত্ব সচেতন ও সাবলীল।

আশার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ হয়। মানুষকে মুগ্ধ করার অসাধারণ গুণ ছিল তাঁর। সাদামাটা কথা বলতেন কিন্তু তার মধ্যে একটা বার্তা থাকতো। তাঁর আদর্শিক, নৈতিক ও আচরণিক ভাবাদর্শ আশা পরিবারের ঐক্যবদ্ধ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতো। তাঁর প্রয়াণে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবার নয়।

একেএম আমিনুর রশিদ

এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর
আশা ইন্টারন্যাশনাল

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী কাজ, একাগ্রতা, সাধনা ও মূল্যবোধ দিয়ে আমাদের সামনে এক অসাধারণ উদাহরণ তৈরী করে গেছেন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন তাই কাজে পরিণত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতেন। তাঁর কথায় ও কাজে কোন তফাৎ ছিল না। এ রকম আরেকটি মানুষ এ সেক্টরে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। ১৯৯২ সালে আমি যখন আশাতে যোগদান করি। তখন অনেকেই বলতেন, যেভাবে আশা কাজ করছে, তাতে এ প্রতিষ্ঠান বেশীদিন টিকে থাকতে পারবে না। আশার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমার ওরিয়েন্টেশন বদলে গেল। কারণ আশার কাজের ধরন ও মডেল আমাকে বদলে দিয়েছিল। এর পিছনে ছিল মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব ও দূরদর্শিতা।

তাঁর কাজের পরিধি সম্পর্কে অল্পকথায় বলা প্রায় অসম্ভব। নেতৃত্বের যে মানে তিনি উন্নীত হয়েছিলেন তা ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরে বিরল। আমরা যদি তাঁর গুণাবলী ধারণ করে সেগুলোকে আমাদের কাজে প্রতিফলন ঘটাতে পারি, তবেই তাঁর প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে।

হুমায়রা ইসলাম

নির্বাহী পরিচালক
শক্তি ফাউন্ডেশন

আমি প্রথমেই মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমি আজকে তাঁর ব্যক্তিত্বের কিছু দিক তুলে ধরবো। আমি যখন ‘শক্তি ফাউন্ডেশন’শুরু করি দরিদ্র মহিলাদের নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে। তখন আমি সবে আমার পিএইচডি গবেষণা শেষ করেছি। আমি শুধু জানতাম দরিদ্র মানুষদের সঙ্গে কাজ করবো এবং তাদের ক্ষমতায়নে কিছু করবো। তখন কীভাবে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় তা একদম জানতাম না। এটা ১৯৯২ সালের কথা।

যখন শক্তি ফাউন্ডেশন শুরু করলাম, তখন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। অর্থ কোথা থেকে আসবে তাও জানতাম না। তখন দাতারা বলছে, নিজের সম্পদ দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করুন। সেই সময় সফিক সাহেবের সঙ্গে একটা মিটিংয়ে দেখা হয়েছিল। তখন দাতারা চলে যাচ্ছে। সবাই তখন চিন্তা করছিল কীভাবে ঋণের অর্থ ফেরত আনা নিশ্চিত করা যায়। ঋণ ফেরত আনা নিশ্চিত করতে নানাবিধ ডকুমেন্ট রাখছিল নানা প্রতিষ্ঠান।

তখন সফিক ভাই দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, অতসব কাগজপত্র ও ডকুমেন্টের দরকার নেই। শুধুমাত্র একটা খতিয়ান বই আর কলম রাখবেন। এতো ফর্ম-টর্মের কিচ্ছু দরকার নেই। আপনি আপনার কর্মীদের ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং তাদের সঙ্গে কার্যকর ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ তৈরী করুন, দেখবেন তাড়াতাড়ি আপনার কাজ হয়ে যাবে। দেখলাম আসলেই এতে খরচ অনেক কম। তখন আশা ছিল সব থেকে ব্যয়সাশ্রয়ী প্রতিষ্ঠান। তিনি সবসময় প্রতিষ্ঠানের ব্যয় হ্রাসের চিন্তা করতেন, সহজভাবে কম সময়ে প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে অধিক কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে ভাবতেন। তাঁর এ দর্শন আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

ইকবাল আহমেদ

চিফ অপারেটিং অফিসার
বিজ

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আশার কোন তুলনা হয়না। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী আশাকে এতবড় প্রতিষ্ঠান তৈরী করে গেছেন, এমন আরেকটি প্রতিষ্ঠান আর তৈরী হবে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তিনি ছিলেন বড় মনের ও দূরদর্শী চিন্তার মানুষ। তাঁর মত মানুষ আমাদের সমাজে খুব কম। ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন কথাটি আমরা তাঁর কাছ থেকে জেনেছি। তাঁর সহায়তায় অনেক ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে গেছে। ওনার সঙ্গে খুব কম দেখা হতো। কিন্তু যখনই দেখা হতো, ওনার আচরণ আমাদের মুগ্ধ করতো।

তাহরুন্নেছা আবদুল্লাহ

সমাজকর্মী ও
সাবেক চেয়ারপারসন,
আশা

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর সাথে আমার অনেক দিনের পরিচয়, সেই ষাটের দশকে। তখন আমি কুমিল্লা বার্ডে ট্রেনিং সেকশনে কাজ করি। সফিক এবং কয়েকজন প্রতিশ্রুতিবান ছেলে তখন বার্ডের গবেষণা বিভাগে কাজ করতো। ট্রেনিং সেকশনের কাজে আমাকে প্রায় ওদের সাহায্য নিতে হতো। সহজ, সরল ও কর্মতৎপর ছেলে সফিককে ডাকলেই সানন্দে চলে আসতো। ১৯৭৮ সালে সফিক কয়েকজন তরুণকে নিয়ে আশা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে তারা গ্রামের উন্নয়নে কাজ করে, পরে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে মনোনিবেশ করে। সে সময় আমি পুনরায় সফিকের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাই। আমি আশার পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলাম। মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিতেন না। সহকর্মী ও গ্রুপ মেম্বারদের মতামত নিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিতেন। সফিকের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত, গর্বিত।

মনজুরুল আহসান বুলবুল

সিনিয়র সাংবাদিক

আশার একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া এবং আমার সাংবাদিক হিসেবে পরিণত হওয়া বলতে গেলে একই সময়ে ঘটেছে। খুব কাছে থেকে আশার পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করার সুযোগ আমার হয়েছে। ২৫-৩০ বছর আগে মিডিয়ার সঙ্গে এনজিওদের সম্পর্ক খুব একটা ভাল ছিল না। সেই সময়ে কয়েকজন ব্যক্তি মিডিয়ার সঙ্গে এনজিওর সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। যাদের অগ্রগণ্য ছিলেন, মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্যার ফজলে হাসান আবেদ, কাজী ফারুক ও খুশী কবির প্রমূখ। সফিক ভাই বলতেন, বুলবুল আপনি তো সমাজ পরিবর্তনে বিল্পবের জন্য কাজ করেছেন, পারেন নাই বলে সাংবাদিকতায় এসেছেন। আমিও তাই করেছি, পারি নাই তাই এখানে এসেছি। আসেন একসঙ্গে কাজ করি।

আজকের অনুষ্ঠানে যারা অংশ নিয়েছেন তারা উপলব্ধি করতে পারছেন আশার বিশালত্ব। ফিলিপাইন, ভারত, আফ্রিকার ঘানা, সিয়েরালিয়নে গিয়ে দেখেছি আশার কর্মীদের। তারা সেখানে দারিদ্র্য বিমোচন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। এ অসাধারণ কৃতিত্বের একক দাবীদার হচ্ছেন মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী।

অনেক বছর আগের কথা। আশা সম্পর্কে একটি নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়েছিল একটি জাতীয় পত্রিকায়। তখন উনি আমাকে ডাকলেন এবং পরামর্শ চাইলেন। আমি এসে দেখলাম পত্রিকার জন্য প্রতিবাদ লিপিতে উনি নিজেই স্বাক্ষর করছেন। আমি তাঁকে বললাম, আপনি এ প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক। আপনি যদি একটি পক্ষ নেন, তাহলে সমাধান দেব কে? উনি বললেন তাহলে করণীয় কী? বললাম, আপনি শুধু পলিসি পেপার ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলোতে স্বাক্ষর করবেন। বাকীগুলো অন্যদের ওপর ছেড়ে দিন। পরবর্তীকালে উনি একদিন আমাকে বললেন, তখন থেকে সব কাগজে সই করি না। কথাটা শোনার পর সম্মানিত বোধ করলাম। কারণ আমার একটি পরামর্শ তিনি গ্রহণ করেছেন।

তাঁর বিবেচনা বোধ ছিল অসাধারণ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা থাকার সময়ে একটি ঘটনা মনে পড়ছে। একদিন তিনি আমাকে তাঁর সরকারি দপ্তরে ডাকলেন। বললেন আপনাকে একুশে পদক দিতে চাই। আপনি আমার প্রিয় মানুষ। আমার কাছে সুযোগ এসেছে। এ সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই। আমি বললাম আমার চেয়ে অনেক সিনিয়র সাংবাদিক আছেন, যারা এখন পর্যন্ত একুশে পদক পাননি। এখন যদি আমি একুশে পদক পাই, তাহলে মানুষ আমাকে গালি দেবে এবং সাথে সাথে আপনাকেও দেবে। আমি প্রেসক্লাবে যেতে পারবো না। আমার কথাগুলো তিনি শুনলেন এবং বললেন আপনার কাছ থেকে এই উত্তরটাই আশা করেছিলাম।

আমি বিশ্বাস করি আশার বর্তমান নেতৃত্ব সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতার সূচিত কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাইলেই তাঁর প্রতি সম্মান দেখানো হবে।

মুর্শেদ আলম সরকার

নির্বাহী পরিচালক, পপি ও
চেয়ারম্যান, সিডিএফ

মোঃ সফিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যুতে আমাদের দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ তিনি দেশ ও জাতিকে অনেক কিছু দিয়েছেন এবং আরও অনেক কিছু দেয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল। বাংলাদেশের মতো পিছিয়ে পড়া দেশের একটি সংস্থা সূচিত উন্নয়ন কৌশল গোটা বিশ্বের মানুষের কাছে সফিকুল হক চৌধুরী পৌঁছে দিয়েছেন। কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ পৃথিবীতে আসেন মানুষের কল্যাণ করতে। সফিকুল হক চৌধুরী ছিলেন তেমনই একজন ক্ষণজন্মা মানুষ। তাঁর অভাব আমরা এখন গভীরভাবে অনুভব করছি।

তিনি সরকারি উঁচু পদে চাকুরির সুযোগ পেয়েও তা স্বেচ্ছায় গ্রহণ না করে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের কাজকেই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর চাওয়া ছিল সরকারের পাশাপাশি আরও ভাল কাজ করে মানুষের কল্যাণ ও দেশের মঙ্গল করা। সেই উদ্যোগের ফলই হচ্ছে আশা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থার কাজ দেশে ও বিদেশে সমাদৃত হয়েছে এবং হচ্ছে।

কিছু মানুষের অবদান কখনও ভুলে যাওয়া যায় না যেমন, সফিকুল হক চৌধুরী। সমসাময়িককালে তাঁর মতো প্রজ্ঞাবান ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ খুব একটা দেখা যায় না। এমনকি আমাদের জীবদ্দশায় এ রকম মানুষ পাওয়ার সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না। যারা আমাদের কাজের সমালোচনা করেন, তাদের বিনীতভাবে বলি, সফিকুল হক চৌধুরী এ সেক্টরে না এলে হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক-যুবতীর ভাগ্যে কী ঘটতো তা কি ভেবে দেখেছেন? এরা কোথায় যেত? মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী অসংখ্য মানুষের কাজের সুযোগ তৈরী করেছেনে। পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে গেছেন। এই বিশাল ব্যক্তিত্বের মানুষটির সঙ্গে কয়েক বছর সরাসরি কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছিল, সে জন্য আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

Sam Daley Harris

Former Director
Microfinance Summit Campaign
USA

It’s so wonderful to be with you, it’s fore in the morning in Princeton, New Jersey, and it’s so wonderful to be with all friends remembering Shafiq.

The first time I spoke to Shafiq, he told me about attending the first Microcredit Summit in 1997 in Washington DC. I think he said it was his first trip to the US. The summit was in February and it was very cold. He told me that he didn’t own a winter coat at that time. As I got to know him, I would come to see his passion for ending poverty, his passion for efficiency and his passion for making a difference.

It was inspiring to be with him and to feel his energy; Shafiq was clearly one of a kind and will be deeply missed. The world needs more people like Shafiq, more people with his energy and his passion for serving the poor. My condolences to his family both his personal family and his ASA family. May he rest in peace.

Stuart Rutherford

Financial Inclusion Expert, UK

This is Stuart Rutherford. I'm very sorry not to be with you in Dhaka today to celebrate Shafiq's life in the company of people who knew him and worked with him in ASA in microfinance in Bangladesh and in world development.

Somebody said to me the other day okay Stuart, you've talked about Shafiq's open and friendly personality. But what was it exactly about his character that made him a great and revolutionary microfinance leader. I thought for a bit and I came up with three answers.

First, he was intensely practical. When he devised the ASA method in the early 1990s, he himself designed the simple system, the branch layout and furniture everything. Always simplifying things to make them stronger, cheaper and more likely to succeed.

Second, he was extraordinarily transparent. When I wrote a book about ASA, I was amazed at his willingness to tell me the ASA's story in full, including the faults and errors as well as the successes.

This openness to the truth allowed him to see ASA's work as it really was what's an all. And this clarity of vision allowed him to lead ASA in a realistic way.

Thirdly, he had a very shrewd understanding of human character. And this often helped him to navigate his way through difficulties.

I served on the ASA board for a few years and I often noticed this shrewdness. For example, if he wanted the board to approve some contentious proposal of his, he would first find some trivial matters that he knew his board members would love to talk about endlessly.

That would use up most of the available time, then he push through his proposals with little adverse discussion at the tail end of the meeting. I still chuckled to myself when I think of these things. May he rest in peace.

Dirk Brouwer

CEO,ASA International
Group PLC,UK

I met Shafiq for the first time in 2004 in a little village in Switzerland where a small group of microfinance leaders and potential investors convened to discuss the potential for setting up an equity fund to invest in microfinance institutions across Asia and Africa.

From the moment Shafiq and I met, I was very impressed by him. By his down to earth directness, ability to make and steadfastly drives through decisions as well as his humility. Despite the great success yet already had in building ASA NGO as one of the world's leaders in microfinance.

For some reasons Shafiq and I really connected it at that meeting and at subsequent meeting with the same group of people in Dhaka. In many ways we complemented each other so well, and this states like that for 17 years, we worked together so closely and tried to build ASA International as a force for serving low-income female micro entrepreneurs across Asia and Africa.

During all those years, I cannot really remember a serious arguments between us on how to resolve problems we faced in building the company. And even if initially disagreed on certain matters, we generally let time help us in arriving at the mutual decision. We crisscrossed the world for so many years initially for rising funds for deathless microfinance investors in Silicon Valley, Wall Street and various European financial capitals and subsequently was building ASA International into a leading microfinance institution across Asia and Africa.

Other than with Elisabeth and our kids I do not think that there's anyone in the world. I've shared stead many mules with over time our relationship developed into a deep friendship based on mutual respect and a true sense of kinship.

Besides are many business meetings, we often were able to steal some time from our busy schedules to do some shopping together. Just like today when I convinced Shafiq to buy a formal business suit at several row in London, which we calls your IPO suit.

I hoped it will give his family comfort that their husband and father is widely recognized not only as one of the world's leader of financial inclusion as also as a kind-hearted human being who committed his life to serving the poor and disadvantaged in Bangladesh and across the world.

His legacy will continue and it’s up to us now that ASA international do continue also his selfless work.

I'm extremely grateful for our friendship and I will deeply miss the work we did together our extensive discussions and just being together. Dear Shafiq, may you rest in peace.

C.S.Ghosh

MD & CEO, Bandhan Bank, India

Shafiq Bhai’s contribution towards microfinance sector is exemplary and so very valuable. His immense dedication towards building ASA and his charismatic leadership is absolutely noteworthy and will always speak volumes about his commitment towards his work.

He will forever and fondly be remembered by all. His association with Bandhan goes a long way. His immense support during the initial stages of Bandhan was commendable. We always appreciate and value his guidance towards our organization. He readily provided suggestions and valuable advice at various phases. Words are not enough to thank him. We will always remain obliged.

We will miss him dearly. Please accept our heartfelt condolences and extend to other family members and all at ASA. We pray that his soul rests in peace.

Dr. Jaime AristotleB. Alip

Founder and Chairman
CARD MRI, Philippines

Today, we remember the life of a selfless leader, my good friend, brother and mentor of CARD MRI, Philippines. Mr. Shafiqual Haque Choudhury.

I will always remember him, the man who taught us that we have to be selfless, humble so that we can give the best service to the marginalized community.

His leadership as ASA Bangladesh Founder-President was compared to Henry Ford by the Asian Development Bank. Because of insistence and simplicity and therefore low-cost nature of ASA operation through standardization products and simplification of procedures with careful consideration of the institutional financial help.

But in every battle, there will come a time when a general must rest. Shafiqual Haque Choudhury has fought a long and meaningful battle and it is now up to us to continue the legacy to the world.

His contribution to the global mission of poverty eradication will be always remembered and celebrated. Rabeya, Tanvir, Tanzil and Tushir, I am one with you to remember Shafiq’s life. You will always have a family in us here at CARD MRI to support you. Let’s assured even Shafiq is no longer with us, I will always be uncle Alip.

In order to keep Shafiq’s legacy and life CARD MRI, Philippines will establish the Shafiq Choudhury Memorial Scholarships Fund. CARD MRI will endow an initial fund of 100 thousand US Doller to the said scholarships and will continue to build that.

The fund will enable us to send qualified students so that we can produce future leaders with a mart of excellence and dedication similar to Shafiq’s.

We will also place marker at CMDI nook of memory alongside Philippines’ former President Corazon Aquino. The nook of memory is a place we recognized and immortalized community development leaders like Shafiq. We know all of these; we never be enough to show how extremely grateful we are to Shafiq.

But we hope that through these endeavours his legacy will always remain an inspiration not only to us but also to the next generation of community development practitioners.

Vicente P.Perlas

President and CEO
Life Bank,
Microfinance Foundation,
Philippines

Greetings to all my friends at ASA Bangladesh and for those of you, who do not know me.

I would like to convey my deepest condolences to all of you for the passing of a great leader in microfinance.

I had the privilege to work with Mr. Shafiq, as I call him, for many years starting with the UNDP micro start project.

What we are now I attribute to him. His team of competent staff through the years in the project have to pass the basic foundation of a sustainable microfinance operation.

We have grown substantially since then. And I still continue to have fond memories of him and every time when I make major decisions, I always think of the things that he mentored the things that he said.

He truly was a visionary, he was truly creative and innovative leader, which we will surely miss.

So before I close I would like to give again my heartfelt condolences to all of you. May you continue to be a great organization even without him.I'm sure all of you will carry forward his vision.

As wellness, we will continue to remember him in our hearts. Thank you.

Guy Dawson

Chairman
ASA International
Group plc, UK

Good afternoon everyone, I just want to say that in my 45 years of business life, Md. Shafiqual Haque Choudhury is the most remarkable leader I have ever met and worked with. He uniquely combined an unwavering social mission with the vision and drive to fulfil that mission through building to highly successful organizations in Bangladesh and Worldwide.

All the while remained as a charming humble and kind man. This for me is a unique combination. We at ASA International still guard Md. Shafiqual Haque Choudhury as our spiritual chairman and will strive to preserve and build on his legacy in the future.

Elisabeth van
Basten Batenburg

Conceptual Initiator
ASA International
Group plc, UK

Shafiq, my very honourable and most generous of friends was passionate, noble, committed, un-corrupted, focused, generous, inclusive, funny, gregarious, curious, loyal, relentless, egalitarian, of deep faith. The list is endless; Shafiq represented all that is good.

I hope, pray, that ASA and ASAI will not ever forget who Shafiq has been, what he has tried to do: he saw each and every one and worked relentlessly for the greater good.

M.M. Attanayake

CEO, Lak Jaya Micro Finance Limited,
Sri Lanka

Thank you very much for giving me this opportunity and we thank on behalf of Lak Jaya Foundation, Sri Lanka, all the staff and all group members of Lak Jaya and we sadly miss our president who has let his entire life towards an unending journey.

My personal life, I met him in 2003 in Singapore. And he was very kind to give me some description over the program and I really appreciated it. Then I was fortunate to join ASA as an implementer in 2009.

Actually, he had been a very humble and gentleman. I had the opportunity to meet him couple of times after joining the Lak Jaya. And we always try to do the best for the people as he has sacrificed.

That is the respect could make him as members of this society. I thank you for giving this opportunity and I pray peace for his soul.

Martijn Bollen

General Counsel
ASA International, Group plc, UK
Philippines

Thank you for allowing me the opportunity to briefly speak about in where I had the opportunity and I'd like to speak from coming from a very different world.

I worked for a commercial law firm back in 2000-2004 and I decided to move away from commercial finance to a different world. And I first met Dirk and later Md. Shafiqual Haque Choudhury and he introduced me to microfinance.

And so I went from big deals of large corporations to small loans to women, which was a major step. And it was really through the work of ASA and the work of Md. Shafiqual Haque Choudhury that I became familiar of the importance to designing products that really help people.

When I speak about microfinance today, and when I talk to my colleagues, they always say the same thing. They tell us microfinance. Yes, it is a business and you can make money but at the end of the day it is a social service and you need to remember that.

I think that is the legacy of Mr. Choudhury that we have to nurture these human relationships because only when the human relationship is healthy and is based on mutual trust. You can be successful as an organization if your organization is built up of people.

I think that's what Mr. Choudhury has told me and my colleagues will forever remember that important lesson.

S S Bhat

CEO, Friends of Women’s World Banking,
India

It is so shocking to know the demise of Md Shafiqul Haque Choudhury President of ASA. It is a great loss to Bangladesh and the world microfinance community.

His contribution in poverty alleviation would be deeply remembered for all the time to come. A legend passes away making all of us poor and the microfinance clients aghast.

Our heartfelt condolences to the bereaved family and people at ASA. May his legacy and ideologies continue to guide us for better days for the people at the bottom of economic pyramid.

Roshaneh Zafar

MD, Kashf Foundation,
Pakistan

I was so saddened to hear the news of Shafiq Bhai’s death. He was a great mentor, a great friend and a wonderful human being. I have such fond memories of spending with him in Dhaka and in Lahore, and the generosity he always extended to me in sharing his wisdom and thoughts. You are all in my thoughts.

I wish the best to the family of Shafiq Bhai in the midst of sorrow and comfort in the midst of pain. We have lost a remarkable person in the Microfinance sector of the world. He was a true champion of poverty alleviation and for the cause of women.

He will be truly and sorely missed by all of us. He touched our lives and thoughts in so many ways. May Allah accord him the highest place in Jannah, Ameen.

Anjan Dasgupta

Managing Director, ASA International,
India

Demise of Md. Shafiqual Haque Choudhury is a great loss. He had been a guardian and a role model for us. I have always2 held him great hope. In fact, without meeting him. I had implemented the ASA model in my banking days, when I was working in one of the remotest areas in India, which was highly successful. I read about him and about the ASA model. When I first met him for an interview, it was a great moment for me to meet him in person.

Subsequent, I came to Bangladesh for exposure visit on the ASA model and the methodology. It was a great experience. What I liked about him was he had details about people he was working with. He knew that my ancestors were from the Pre-partition Bangladesh in an area called Barisal. So he instructed everyone to send me to Barisal for my exposure visit.

When I came back from Barisal, he asked me what did you actually learn? I told him that it was a wonderful experience. It was so pleasant to know a model which was so simple and so workable. It was a great learning for me.

ASA President Md. Shafiqual Haque Choudhury said that you were working in one of the most underserved areas in India, the northeastern part and the eastern part. He said, “I wanted you to scale up and to reach out to the poorest of the poor. Forget about the costs. You should reach out the people who needed financial assistance immediately.”

My greatest respect to this gentleman. All staff of our ASA International India hold him in greatest of respect and pray for peace to his soul.

Dirk Brouwer

CEO
ASA International
Group PLC
UK

For health reasons, Mr Choudhury resigned as a Director and as Chairman of ASA International, with effect from 31 December 2020. At the request of the Board, he was assigned the role of President as of 1 January

0
{{stat.SubHeaderText}}

{{videoOverview.Description}}


News & Events

ASA Bangladesh - All Branch Location